চাকুলিয়া : প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্কুল চত্বরে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। গভীর রাত অবধি চলে তাদের জমজমাট মদের আসর বসে স্কুল চত্বরে। মদ খেয়ে খালি বোতলগুলি ক্লাস ঘরের ভিতর ও স্কুল চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখে চলে যাওয়া তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস।পরদিন স্কুল খোলার সময় শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মদের বোতলগুলি কুড়িয়ে  ফেলতে হয়। স্কুলঘরের দরজা, জানালা ভেঙে, চুরি করে মদের খরচও তুলে নিচ্ছে তারা। এমনই প্রতিদিনের ঘটনা উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ব্লকের সাহাপুর প্রাথমিক স্কুলের।

স্কুলের শিক্ষকরা অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে তারা কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিশ আলম বলেন, ‘আমাদের দুর থেকে স্কুলে আসতে হয়। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া পদক্ষেপ করতে পারি না। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ধরনের  কাজকর্ম বন্ধ করার জন্য স্থানীয় ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করেছি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, এসব দেখে  কচিকাঁচারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাও আবার কেউ বুঝতে চান না। স্কুলে আসার পর আগে মদের ভাঙা বোতলগুলি  সরিয়ে ফেলা এখন আমাদের প্রতিদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। তা নাহলে ভাঙা বোতলের কাচ থেকে নানা রকম বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত  রয়েছে  এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যুবকরা। এদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খোলার তেমন সাহস পায় না। পুলিশ প্রশাসন এদের ধরে নিয়ে গেলে আবার থানা থেকে  ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরেই মদ জুয়াড়িদের একটি আড্ডায় পরিণত হয়েছে। অথচ প্রশাসন দেখে না দেখার ভান করছে।

গোয়ালপোখর সাহাপুর অঞ্চলের প্রধান অজয় সিংহ বলেন, ‘স্থানীয়স্তরে আলোচনা করে দেখছি। চেষ্টার পরেও যদি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব না হয় তাহলে পুলিশের সাহায্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গোয়ালপোখর  বিডিও অতনু ঘোষ বলেন, ‘এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ গোয়ালপোখর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।

ছবি- সাহাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়

তথ্য ও ছবি- আসরাফুল হক