করোনার জেরে বন্ধ স্কুল, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকরা

100

রায়গঞ্জ: করোনা সংক্রমণের জেরে গত বছর প্রথম আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এবছরও ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ থেকে বাজার হাট, শপিং মল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনসমাগমের জায়গা বন্ধ। পাশাপাশি, স্কুল কলেজ সর্বত্রই চলছে অনলাইন ক্লাস। করোনার জেরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় উচ্চ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বিনা পরীক্ষাতেই সরাসরি দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করে দেওয়া হবে। এনিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরা।

রায়গঞ্জের বাসিন্দা রূপক দে জানান, তাঁর ছেলে অনির্বাণ দে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। প্রথমে অনলাইনে পরীক্ষা হচ্ছিল কিন্তু এখন এই নয়া নির্দেশিকা জারি করার পর আর পরীক্ষা হবে না। সেজন্যই কোথাও যেন আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে সে। পাশাপাশি আরেক অভিভাবক চন্দন সরকার জানান, পরীক্ষা হলে অন্তত মন দিয়ে পড়াশোনা করত তাঁর ছেলে রাজু। দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবে। পরীক্ষা দিতে হবে না বলে পড়াশোনায় সেভাবে মনযোগ করতে পারছেনা।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, ‘এই লকডাউন ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। পরীক্ষা কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ দুই ক্ষেত্রেই তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। অনলাইনে ক্লাসের ফলে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দী থাকার ফলে তারা বন্ধুদের সঙ্গ পাচ্ছে না। এসবের প্রভাব পড়ছে তাদের আচরণে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে। স্কুলগুলি অনলাইনে ক্লাস ঠিকঠাকভাবে করালেও অভাবে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে ল্যাপটপ কিংবা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নেই। স্বাভাবিকভাবেই তারা পিছিয়ে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তারা যে সমস্যায় পড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. পার্থসারথি রায় ও মীনাক্ষী মিত্র জানান, বিষয়টা এখন খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কথা ভাবলে এসময় অবশ্যই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো উচিত নয়। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবার অভিভাবকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের আরও বেশি সময় কাটাতে হবে। পাশাপাশি, ইন্টারনেট যখন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সে বিষয়টিকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাচ্চারা যেহেতু এখন স্কুলে যেতে পারছেনা বা বাইরে কোথাও বেরোচ্ছে না তাই তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের মনের কথা জানার খুবই দরকার। এই বিষয়গুলি মাথায় রাখলে বাচ্চারা ডিপ্রেশন বা একাকিত্বের শিকার কম হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার গুরুত্ব অনেকখানি। এই পরিস্থিতিতে অবশ্যই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির অভিভাবককে তাদের সন্তানের দিকে আরও বাড়তি নজর দিতে হবে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যাতে বাড়তি চাপের শিকার না হয় সেটাও দেখতে হবে।