হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল

251

নাগরাকাটা: হাতির হানায় সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল রাজ্যের শিশু মিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত স্কুল। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে নাগরাকাটার বামনডাঙ্গা চা বাগানের টন্ডু ডিভিশনে। সেখানকার টন্ডু টিজি স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক স্কুলটির দশা এমন হয়েছে যে স্কুল খোলার পর সেখানে আর পড়াশোনা চালু রাখা সম্ভব হবে না বলে জানিয়ে দিচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত ১০ বছরে ২৯তম হাতির হামলার শিকার হল ছবির মত সাজানো সরকারি স্কুলটি। তবে এবারের হামলাটিই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। অন্যদিকে হাতি সে রাতে দুরমুশ করে দিয়েছে বামনডাঙ্গা চা বাগানের ফ্যাক্টরি লাগোয়া ৩ টি দোকানও। দিন আনি দিন খাই গোছের ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। লাগাতার হাতির হামলার শিকার বামনডাঙ্গা ও টন্ডুর বাসিন্দারা এদিন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ ওরাওঁ সহ শাসক দলের নেতারা সেখানে পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরাও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বন দপ্তর কোনও পদক্ষেপ করছে না। যদিও গরুমারা বন্যপ্রাণ ডিভিশনের ডিএফও নিশা গোস্বামী বলেন, হাতির হামলা ঠেকাতে বনকর্মীদের চেষ্টার কোনও খামতি নেই। রবিবার রাত দেড়টা পর্যন্ত এলাকায় তাঁরা হাতি তাড়িয়ে অন্য আরেকটি স্থানে চলে আসার পর ঘটনাগুলি ঘটে। স্থানটির প্রতি বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।টন্ডুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক বড়ুয়া বলেন, প্রতিবার হাতির হামলার পর ধার দেনা করে স্কুল বাড়ি মেরামত করা হয়েছে। বন দপ্তর বা প্রশাসন কারও কাছ থেকেই কোনও সাহায্য আজ পর্যন্ত মেলেনি। এবার যা পরিস্থিতি হয়েছে তাতে নিজের উদ্যোগে আর মেরামত সম্ভব নয়। স্কুলের নিজস্ব টাকাও নেই। আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত স্কুল খুললেও পড়াশোনা চালু রাখা আর সম্ভব নয়। জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ ওরাওঁ বলেন, বৃহস্পতিবার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসক ও ডিএফও-র সঙ্গে দেখা করব। লাগাতার হাতির হামলা চলতে থাকলেও দেখা যাচ্ছে বনদপ্তরের তরফে কোনও সাড়া শব্দ নেই। স্থানীয়দের ক্ষোভ স্বাভাবিক। বামনডাঙ্গা-টন্ডুতে যৌথ বন পরিচালন সমিতি গঠন ও এখানকার স্থানীয়দের বন সহায়কের পদে নিয়োগ করার দাবি বনদপ্তরের কাছে জানানো হবে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ পাশের ডায়না জঙ্গল থেকে বেরিয়ে দুটি হাতি স্কুলটির বিশাল গেট সমূলে উপড়ে দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভোর ৫টা পর্যন্ত নজিরবিহীন তাণ্ডব চালায়। বিদ্যুতের তারও ছিড়ে ফেলে দেয় হস্তীযুগল। সৌভাগ্যবশত বিদু্তস্পৃষ্ট হওয়ার মত কোনও ঘটনা ঘটেনি। শ্রেণী কক্ষ, রান্না ঘর, গুদাম, লাইব্রেরী কোনও কিছুই এখন আর সেখানে অক্ষত নেই। কংক্রিটের চাঙর যত্রতত্র বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছে। সাবাড় করে মিড ডে মিলের সামগ্রী থেকে শুরু করে স্কুলের নানা ধরনের গাছগাছালি। তণমূলের সুলকাপাড়া অঞ্চল কমিটির সভাপতি ও টন্ডুর বাসিন্দা ভগবানদাস ওরাওঁ বলেন, স্কুলটি আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার গর্ব। হাতি সবকিছু শেষ করে দিল। দ্রুত বনদপ্তর পদক্ষেপ না করলে বাসিন্দারা পথে নামবে। যুব তণমূলের ব্লক সভাপতি গোবিন লামা বলেন, এলাকাকে বাঁচাতে বনদপ্তরকে কিছু একটা করতেই হবে। এমন হামলা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাও শক্ত। এদিকে বামনডাঙ্গা চা বাগানের ফ্যাক্টরি লাগোয়া স্থানে যাদের দোকান ভাঙছে তাঁরা হলেন সংগীতা দেবী সিং, সুবে এক্কা ও তপন আলো মিত্র। বাগানের এক কর্মচারী মুকেশ চৌধুরি বলেন, একটি বড় হাতির সঙ্গে অত্যাচার চালাতে দোসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে আরেকটি ছোট হাতি। সেটি এতই ক্ষিপ্ত যে স্থানীয়রা কমান্ডো নামে ডাকেন। গোটা বাগান জুড়ে এখন অজস্র বাড়ি ঘর ভাঙা। কারও কোনও হেলদোল নেই।