ডাইসের তথ্যপঞ্জি পাঠানোর ক্ষেত্রে ১৮টি জেলা পিছিয়ে, স্কুলের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে চিন্তা

358

জলপাইগুড়ি : রাজ্যের স্কুলগুলির সার্বিক উন্নযনের ক্ষেত্রে এবং বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম অন এডুকেশন বা ডাইস। ডাইসের তথ্যপঞ্জি পাঠানোর ক্ষেত্রে ২৪টি জেলার মধ্যে ১৮টি জেলা পিছিয়ে পড়েছে। তথ্যপঞ্জি পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকে টেক্কা দিয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা। এর মধ্যে স্কুলভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা, তপশিলি জাতি, আদিবাসীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষার্থীভিত্তিক প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার ফল, গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা, স্কুলে ঘরের সংখ্যা, শৌচাগারের অবস্থা, পানীয জলের পরিকাঠামো প্রভতি তথ্য ডাইসে দিতে হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের রাজ্য দপ্তর থেকে পিছিযে পড়া জেলাগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে তথ্যপঞ্জি পূর্ণাঙ্গভাবে না আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া গেলে আগামী বছর বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে সমগ্র শিক্ষা অভিযান কর্তৃপক্ষকে বিপাকে পড়তে হবে। জেলাস্তরে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের বাজেট হয়। সেই বাজেট পর্যালোচনা করা হয় রাজ্যস্তরে। সেখান থেকে বাজেট যায় কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ দপ্তরে। ডাইসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জেলাগুলি থেকে না এলে আগামী আর্থিক বছরে পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র শিক্ষা অভিযানের বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যাই শুধু হবে না, প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হবে বহু বিদ্যালয়।

অন্যদিকে, বাজেটের টাকা না আসায় জলপাইগুড়ি জেলায তিন হাজার বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীকে অনুদান দেওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ শতাধিক বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থী কৃত্রিম সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত। জেলার তিন লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর পোশাকের টাকা আসেনি। ২০২০-২০২১ আর্থিক বছর শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল। আর্থিক বর্ষে প্রায় তিনমাস পার হওযার পরও জেলার সমগ্র শিক্ষা অভিযানের ২৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ দপ্তর। ফলে স্কুলগুলির পরিকাঠামো বিকাশের ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছে না সমগ্র শিক্ষা অভিযান কর্তৃপক্ষ। জেলায় মোট ২,৭৬১টি স্কুলের পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। বাজেট বরাদ্দ না আসায় জেলার শিক্ষার পরিকাঠামো বিকাশের কাজ থমকে গিয়েছে।

- Advertisement -

বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের জেলা সমন্বায়ক আমানুল্লা মণ্ডল বলেন, ‘তিন হাজারেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীকে পঠনপাঠনের সুবিধার্থে অনুদান দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের শ্রবণযন্ত্র, ক্রাচ, ট্রাইসাইকেল সহ বিভিন্ন কৃত্রিম উপকরণ দেওয়া যাচ্ছে না।’ জেলা সমগ্র শিক্ষা অভিযানের প্রকল্প আধিকারিক মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘তিন লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর পোশাকের টাকা আসেনি। বাজেটে রাজগঞ্জ, ধূপগুড়ি এবং মযনাগুড়িতে একটি করে অবর বিদ্যালয পরিদর্শকের দপ্তর তৈরির প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। তা অনুমোদিত হলে তিনটি দপ্তর নির্মাণ করা হবে। জলপাইগুড়ি জেলার জন্য ২৫০ কোটি টাকার বাজেট তৈরি করে রাজ্যের মাধ্যমে কেন্দ্রীয মানবসম্পদ দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনও কোনও অর্থ মঞ্জুর হয়নি। এবার তারা জেলার বিদ্যালয় পরিকাঠামো উন্নযনে ১০০ কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করেছেন।’ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি নির্মল সরকারের অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের শিক্ষা বিকাশের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করছে। তিনমাস অতিক্রান্ত হওয়ার মুখেও বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হল না।’ নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা বলেন, ‘জলপাইগুড়ি জেলা শিক্ষার দিক থেকে পিছিযে পড়া। এই জেলাকে কেন্দ্রীয সরকার বঞ্চিত করছে।’

তথ্য- জ্যোতি সরকার