স্কুল বন্ধ, বাঁশিতে মজেছে স্বয়ংপ্রভা

203

রায়গঞ্জ: স্কুল বন্ধ প্রায় দেড় বছরের বেশি। একাদশে পরীক্ষা না দিয়ে দ্বাদশে উত্তীর্ণ হলেও স্কুলে যাওয়া হয়নি। স্কুলজীবন হয়তো আর ফিরবে না। সহপাঠীদের সঙ্গেও হয়তো আর দেখাই হবে না। এমনই মন খারাপ নিয়ে দিন কাটছে স্কুল পড়ুয়াদের। তবে, এতে হতাশ হয়ে পড়তে নারাজ রায়গঞ্জের মোহনবাটির বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী স্বয়ংপ্রভা রায়। লকডাউনে বাবার কাছে বাঁশি বাজানো শিখে নিয়েছে সে। নিয়ম মেনে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিমও নিচ্ছে বাবার কাছেই। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় পড়াশোনার চাপ যথেষ্ট বেশি। তবুও পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে তৈরি করছে স্বয়ংপ্রভা।

অষ্টাদশী স্বয়ংপ্রভার বাবা রায়গঞ্জ মোহনবাটি হাই স্কুলের ভুগোলের শিক্ষক তথা শিল্পী বিশ্বজিৎ রায়। মা শহরের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী চিরঞ্জীতা ঘোষ। ফলে, বাড়িতে গান বাজনার চর্চা আগে থেকেই ছিল। বাবার কাছে বাঁশির তালিম নেয় সে। মা তাঁকে সুর ধরিয়ে দেন। ফলে বাঁশি নিয়েই মজে থাকে সে। বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজিয়ে প্রশংসিতও হয়েছে স্বয়ংপ্রভা।

- Advertisement -

তাঁর কথায়, ছোটবেলায় বাঁশি বাজানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পরে আর হয়নি। গতবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর আবার শুরু করি। একবছরের মধ্যে মোটামুটিভাবে আয়ত্ত্বে এনেছি। আগামীদিনে আর্থ সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে রয়েছে। তবে, বাঁশি বাজানো ছাড়ছে না বলেই জানায় স্বয়ংপ্রভা। বাবা বিশ্বজিৎ রায় জানান, নিয়মিত অনুশীলন করে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ওকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেন। মা চিরঞ্জিতা ঘোষ জানান, তাঁদের সকলের ইচ্ছে স্বয়ংপ্রভা যেন বাঁশি বাজানো যেন ধরে রাখতে পারে।