ছাত্রীনিবাস তৈরিতে নিম্নমানের রড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না পরিচালন সমিতি

1293

গয়েরকাটা: ধূপগুড়ি ব্লকের গয়েরকাটা গার্লস হাইস্কুলের কস্তুরবা গান্ধি ছাত্রীনিবাস তৈরিতে নিম্নমানের রড ব্যবহার না করার দাবি জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছাত্রীনিবাস তৈরির জন্য নিম্নমানের রড আনা হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে গয়েরকাটা গার্লস হাইস্কুলের পরিচালন সমিতিও। তবে সমিতির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই রড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের অর্থানুকূল্যে প্রায় ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ছাত্রীনিবাস তৈরির সবুজ সংকেত মেলে গত মার্চ মাসে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলছুট এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মেয়েদের জন্য এই ছাত্রীনিবাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাত্রীনিবাসে একশো জন ছাত্রী থেকে পড়াশোনা করতে পারবেন। জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যার জেরে প্রকল্পের কাজ স্থগিত ছিল। কিছুদিন আগে সেই ছাত্রীনিবাসের কাজ শুরু হয়। ছাত্রীনিবাসের প্রাথমিক পর্বের কাজের জন্য যে লোহার রড আনা হয়েছে সেই রড নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে গয়েরকাটায়। ছাত্রীনিবাস নির্মাণের জন্য নিম্নমানের রড আনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি সহ এলাকার অনেকেই।

- Advertisement -

যদিও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত দত্ত বলেন, ‘সঠিক মানের রড ছাত্রীনিবাস তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণও সঠিকভাবেই হচ্ছে।’

গয়েরকাটা গার্লস হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি মানসরঞ্জন ঠাকুর বলেন, ‘ছাত্রীনিবাস তৈরির জন্য কী করলে ভালো হয়, তা নিয়ে আজ পর্যন্ত স্কুল শিক্ষাদপ্তর বা ঠিকাদার সংস্থার তরফে বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়নি। পাশাপাশি যে রড আনা হয়েছে, তা উপযুক্ত নয়। তাই ওই রড ব্যবহারের অনুমতি আমরা দেব না।’

সাঁকোয়াঝরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মনলতা রায় বলেন, ‘ছাত্রীনিবাস নির্মাণে নিম্নমানের রড ব্যবহার নিয়ে আমাকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন। আমি এলাকায় গিয়েছি। কাজ যাতে সঠিকভাবে হয় তা দেখার জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিকে অনুরোধ করেছি। সত্যিই যদি নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা পরিবর্তন করে সঠিক রড লাগানোর বিষয়ে প্রশাসনের কাছেও আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।