‘ভরসা উপরওয়ালা’-করোনা আবহেও দিব্যি চলছে প্রাথমিক স্কুল

208

তুফানগঞ্জ : ভরসা ওপরওয়ালা। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে স্কুল খোলালেন অভিভাবকরা। আর সেই স্কুলে করোনা বিধি ভঙ্গ করেই চলছে পঠনপাঠন। ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রামে। শুধু যে এই প্রত্যন্ত গ্রামেই স্কুল খুলে পড়াশুনা চলছে তা নয়। তুফানগঞ্জ ১ ব্লক এবং শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করছেন বলে অভিযোগ।  মুলত তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় থাকা বেসরকারী বিদ্যালয়গুলিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পঠনপাঠন।

কৃষ্ণপুর গ্রামের স্কুলটিতে পঠনপাঠন চললেও সেখানে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। এক একটি শ্রেনী কক্ষে ২০ থেকে ৩০ জন করে পড়ুয়াকে বসানো হয়েছে। কারও মুখে নেই মাস্ক। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখার কোন বালাই নেই স্কুলে। বিদ্যালয়ের মালিক তথা প্রিন্সিপাল জানান, অভিভাবকদের চাপেই তারা স্কুল খুলেছেন। আবার অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাঁরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন ওপরওয়ালার ভরসায়। যদিও এদিন ক্যামেরা দেখেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছুটি দেওয়া হয় একের পর এক ক্লাস।  কৃষ্ণপুর গ্রামের ঐ বেসরকারী বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নির্মল বর্মন জানান, সরকারি নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় খোলার কোনো ইচ্ছেই তাঁর ছিল না। কিন্তু অভিভাবকদের চাপে পড়েই স্কুল খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্কুলে ১৫০ জনের বেশী ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। আগামীতে মিটিং করে স্কুল বন্ধ করার বিষয়ে অবিভাবকদের সাথে কথা বলবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ। বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক চাঁদ মিঞা মণ্ডল জানান,  বাড়িতে বসে শিশুরা পড়তে চায়না তাই ওপরওয়ালার ভরসায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো হয়েছে।  কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক)কানাইলাল দে জানান, সরকারী বা বেসরকারি স্কুল খোলার বিষয়ে কোন নির্দেশিকা নেই। অভিযোগ পেলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

- Advertisement -