বর্ধমান, ১৮ জানুয়ারিঃ লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটে বর্ধমান থানার বীরপুর মোড়ে। মৃতার নাম মসিনা খাতুন ওরফে মুসকান (৮)। সে বীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া। বীরপুর এলাকাতেই তার বাড়ি। এদিন পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক লরি ও তার চালককে আটক করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।

স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে মুসকান স্কুলে যাচ্ছিল। সেই সময় পুলিশ তাড়া করায় দ্রুত গতিতে আসা একটি লরি তাকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার জন্য বীরপুর এলাকার বাসিন্দারা দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে সড়কপথে দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। পুলিশের তোলাবাজির হাত থেকে বাঁচতে বীরপুর মোড় এলাকা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল করে। তার জন্য নিত্যদিন ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। ভয়ে পড়ুয়ারা স্কুলে যেতে চায় না। স্কুলের সামনে গাড়ির গতি যাতে কম থাকে তার জন্য সড়কপথে বাম্পার তৈরি করে দেওয়ার কথা জানানো হলেও প্রশাসনের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। এমনকি পুলিশ এদিনও এলাকার সড়কপথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করছিল বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, পুলিশ তাড়া করায় লরিটি অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করে পালানোর সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের সড়কপথে গাড়ি আটকে টাকা আদায় বন্ধ না হলে বৃহত্ত্বর আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। যদিও এই বিষয়ে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশের তরফে কিছু জানা যায়নি। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এলাকাবাসীর অভিযোগকে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ঘাতক লরি ও তার চালককে আটক করা হয়েছে। লরিতে আগুন লাগানো ও পুলিশ কর্মীদের হেনস্তা করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলবে।