শ্বশুরবাড়ি থেকে ক্লাসরুমে চাকুলিয়ার ফারজানা

56

চাকুলিয়া : বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছাত্রীর, এমন উদাহরণ তো ভূরিভূরি। কিন্তু বিয়ে পিঁড়িতে বসার পরও যে শ্বশুরবাড়ি থেকে আবার ক্লাসরুমে ফিরে আসা যায়, তা দেখিয়ে দিল ফারজানা।

চাকুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা বেগম। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবরই স্কুলে মেধাবী ছাত্রী বলেই পরিচিত ফারজানা। যে কোনও চ্যালেঞ্জ নিতে সে পছন্দ করে। তার বাবার বাড়ি বারসালপুর গ্রামে। সেখান থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় ১০ কিমি। দূরত্বের জন্য অনেকেই পড়াশোনা ছাড়লেও সে কিন্তু হাল ছাড়েনি। লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই আবার তার বিয়ে হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়ি চলে যায় ফারজানা। শিক্ষকদের অনেকেই সে খবর পেয়ে ভেবেছিলেন, হয়তো আর স্কুলে আসবে না সে। কিন্তু মঙ্গলবার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে দিব্যি স্কুলে এসেছে সে।

- Advertisement -

চাকুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বাসুদেব দে বলেন, লকডাউনে গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের শিক্ষার হাল খুব শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অনেকেই লকডাউনে পড়াশোনা ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।  এই তালিকা থেকে বাদ নেই স্কুলের মেয়েরাও। এদের মধ্যে অনেকেই  পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতে বসে বিড়ি শ্রমিকের কাজ করছে। কিংবা বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে গিয়েছে। এখবর আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু ফারজানা বেগম ব্যতিক্রম। এলাকার অন্যান্য মেয়েদের জন্য সে উদাহরণ। তার পড়াশোনার জেদ দেখে আমরা ভীষণ খুশি।

ফারজানার বাবা রশিদ আলম পেশায় কৃষি শ্রমিক। তিনি বলেন, বরাবর আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। এই অবস্থায় ভালো পাত্র পেয়ে আমরা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু  মেয়ে স্কুলে  পড়তে চায়। ওর পড়াশোনার জেদ দেখে আমরা হেরে যাই। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে ওকে পড়াশোনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফারজানা বেগমের কথায়, আমি পড়াশোনা করে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমার স্বপ্ন পড়াশোনা করে বড় কিছু একটা করা। আমার স্বামীও পড়াশোনার ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন। আমি ভীষণ খুশি।