পড়ার খরচ চালাতে ফল বিক্রি মানবের

567

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছে। কিন্ত বাধ সেধেছে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা। দেবীনগর মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মানব সাহা। প্রতিদিন সকাল হলেই দেবীনগর বাজারে ঢুকতেই রাস্তার বাম পাশে কেজি তিনেক কমলা নিয়ে বসতে দেখা যায় তাকে।

মানবের বাবা প্রকাশ সাহা পেশায় টোটো চালক। দীর্ঘ লকডাউনের জেরে টোটো চালানো বন্ধ থাকায় টোটোর ব্যাটারি খারাপ হয়ে যাওয়ায় টোটো নিয়ে আর বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের উপার্জন নেই বললেই চলে। দিন হাজিরা কাজ করে যা মেলে তা দিয়ে কোনও মতে পরিবারের চার সদস্যের খাবারটুকু জোগাড় হয়। তাই নিজের পড়াশোনার খরচ তুলতে বাজারে ফল বিক্রি করতে হচ্ছে মানবকে।

- Advertisement -

২০২০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে ৩৩৭ নম্বর নিয়ে সে পাশ করে। এরপর দেবীনগর মাড়াইকুড়া ইন্দ্রমোহন বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণিতে কলা বিভাগে ভর্তি হয় মানব। বিষয় হিসেবে সে বেছে নেয় ভূগোলকে। কিন্তু ছেলের টিউশন খরচ জোগাতে তার বাবাকে হিমসিম খেতে হয়। টিউশন মাস্টারের টাকা জোগাড় করতে না পারায় প্রায় তিন মাস ধরে টিউশন পড়তে যেতে পারছে না সে। এই অবস্থায় কি করবে ভেবে কূল পাচ্ছিল না সে। শেষ পর্যন্ত পাড়ার এক দাদার থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে ফলের ব্যবসা শুরু করে। কমলালেবু, আপেল, কুল বিক্রি করে পড়ার খরচ ওঠানোর চেষ্টা শুরু করে। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ফল বিক্রি করার পর বাড়ি ফিরেই স্নান ও খাওয়া সেরে পাইকারি বাজারে ছুটতে হয় তাঁকে। অপরদিকে মানবের দাদাও পরিবারের জন্য টিউশন পড়ানো শুরু করে।

মানব জানিয়েছে, দীর্ঘ লকডাউনে পরিবারের আয় খুবই কমে গিয়েছে। পড়াশোনার খরচ জোগানো তাঁর বাবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিজের পড়াশোনার খরচ তুলতে একবেলা ফল বিক্রি করতে হচ্ছে। আপাতত কমলা বিক্রি করছে সে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টাকা আয় হয়। তাঁর স্কুলের প্রধান শিক্ষক নির্মলচন্দ্র সরকার বলেন, ‘ছাত্রটিকে কিভাবে সাহায্য করা যেতে পারে তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আমরা মানবের পাশে থাকব।’