পেটের টানে নদী থেকে বালি-পাথর তুলছে শিবুরা

266

ফালাকাটা : করোনা পরিস্থিতির জেরে প্রায় চারমাস থেকে বন্ধ রয়েছে স্কুল। এর জন্য গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ পড়ুয়ার পড়াশোনা লাটে উঠেছে। কারণ, দিনমজুর পরিবারগুলিতে নেই অ্যানড্রয়েড ফোন। তাই ওইসব পরিবারের পড়ুয়ারা অনলাইন শিক্ষায় শামিল হতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবকই কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। তাই সংসারে সাহায্য করতে পড়াশোনা বন্ধ রেখে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের। ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী চত্বরে প্রায়দিনই একদল কিশোরকে বালি-পাথর তুলতে দেখা যাচ্ছে। তারা সবাই স্কুল পড়ুয়া। দিনে কয়েক ঘণ্টা এভাবে কাজ করে উপার্জনের টাকায় সংসারে কিছুটা জোগান দিচ্ছে তারা।

জলদাপাড়া বনাঞ্চল হয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে গিয়েছে চরতোর্ষা নদী। বর্ষায় কোথাও কোথাও এই নদীর ভাঙনের জেরে উৎকণ্ঠায় থাকেন বাসিন্দারা। আবার এই নদীই অনেকের মুখে অন্ন জোগান দেয়। সরকারিভাবে রয়্যালটি না থাকলেও সারাবছরই এই নদী থেকে কমবেশি বালি-পাথর তোলা হয়। একশ্রেণির মানুষ স্থানীয়দের মজুরি দিয়ে বালি-পাথর পাচার করে। ফালাকাটার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর মাঝেমধ্যে অভিয়ান চালালেও চরতোর্ষা নদী থেকে বালি-পাথর পাচার বন্ধ হয়নি। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির জেরে স্থানীয় কিশোরদেরও এই নদী থেকে বালি-পাথর তোলার কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তারা নেহাত শখের বশে নয়, পেটের টানে সংসারে সাহায্য করতেই এই কাজ করে দিনে এক-দেড়শো টাকা উপার্জন করছে।

- Advertisement -

এই নদীতে বালি-পাথর তুলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক দিনে চার-পাঁচশো টাকা রোজগার করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের তুলনায় কিশোররা অনেকটাই কম বালি-পাথর তুলতে পারে। এজন্য তাদের উপার্জনও কম হয়। আবার স্কুল পড়ুয়ারা জল বেশি থাকায় মাঝনদীতে যেতে পারে না। তাদের নদীর তীরবরাবর এই কাজ করতে হয়। তবে বর্ষাকালে এভাবে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা অনেকটাই বিপজ্জনক। কিন্তু তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করছে। শিবু মুন্ডা নামে এক স্কুল পড়ুয়া বলে, অনেকদিন থেকেই স্কুল বন্ধ। বাবা-মাও সেরকম কাজ পাচ্ছে না। তাই আমি বালি, পাথর তুলে কিছুটা রোজগার করছি। শিবু শিলবাড়িহাট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। ওই স্কুলেরই আরও কয়েকজন পড়ুয়া রমেশ, সত্যেন, বাবলু জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় তাই বাড়িতে সেরকম পড়াশোনা হচ্ছে না। কবে নাগাদ স্কুল খুলবে সেটাও জানা নেই। তাই মাঝেমধ্যে এভাবে নদীতে কাজ করে তারা কিছুটা উপার্জন করছে।

তবে পড়ুয়াদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে নদীতে কাজ করাকে সমর্থন করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিলবাড়িহাট হাইস্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নিখিল পোদ্দার বলেন, বর্ষাকালে এভাবে নদীতে নেমে কাজ করা ঠিক নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রযোজন। পড়ুয়াদের বাড়িতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য স্কুলের তরফে নানাভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।