স্কুল বন্ধ, পসরা নিয়ে হুজুর সাহেবের মেলায় খুদেরা

184

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : দশ মাস আগেও পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুল যেত ওরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জাঁতাকলে পড়ে বদলে গিয়েছে পরিচয়। ওই খুদে পড়ুয়ারা এখন ব্যবসায়ী। হুজুরের মেলা প্রাঙ্গণে মাজার চত্বরে মোমবাতি, ধূপকাঠি, চাদর, নকুলদানার পসরা সাজিয়ে বসছে ওরা। মানুষ দেখে হাঁক দিচ্ছে, ধূপকাঠি, মোমবাতি নেবে! শর্তসাপেক্ষে অল্পসংখ্যক দোকান সহ ৭৭তম হুজুর সাহেবের একরামিয়া ইসালে সওয়াব আয়োজনের অনুমতি মিলেছে। বৃহস্পতিবার থেকে অন্যবছরের তুলনায় কম হলেও মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তাদের লক্ষ্য করে হাঁক দিয়ে ধূপকাঠি, মোমবাতি সহ নানা উপকরণ বিক্রি করছে আনিশা সরকার, রিয়াজ প্রামাণিক, সিরাজ প্রামাণিক, শেখ এনদাদুলরা।

হুজুর সাহেবের মাজার চত্বরে প্রবেশপথে দেখা মিলবে বছর ছয় থেকে পনেরোর কয়েকজন খুদেকে। কয়েক মাস আগেও এরা পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেত। পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে পরিচয়। ধূপকাঠি, মোমবাতি বিক্রির ফাঁকে বছর ১২-র বাপ্পা মহম্মদের কথায়, ঘরে খুব অভাব। ক্লাস সিক্সে পড়ি। কিন্তু এখন স্কুল বন্ধ। তাই জিনিসপত্র নিয়ে মেলায় এসেছি বিক্রি করতে। খরিদ্দারদের সামগ্রী দেখাচ্ছিল খুদে মমিনুল ইসলাম। সে বলে, স্কুল নেই বলে বাড়িতে বসে থাকি। বাবা পাঠিয়ে দিয়েছে জিনিসপত্র বিক্রি করতে। মেলার দুদিন ব্যবসা করব। মেলা দেখতে এসে জয়দীপ দে বলেন, এত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হাঁক দিয়ে ডেকে জিনিসপত্র বিক্রি করছে। দেখে কষ্টই হয়।

- Advertisement -

খুদেরা জানায়, ওরা সকলে আশপাশের স্কুলের পড়ুয়া। অধিকাংশেরই অভাবের সংসার। অন্যসময় স্কুলে গেলেও, এখন তা বন্ধ। সীমান্তবর্তী এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যায় অনলাইনে পড়াশোনাও সম্ভব নয়। তাই যে বয়সে পড়াশোনা আর খেলাধুলোয় মেতে থাকার কথা, বাবা-মাকে সাহায্য করতে মেলা প্রাঙ্গণে দোকানের পসরা নিয়ে বসতে হচ্ছে রোজগারের জন্য। স্কুল বন্ধের সময়ে খুদে পড়ুয়ারা রাতারাতি পয়সা রোজগারে নেমে পড়ায় চিন্তিত তাদের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। বালাডাঙ্গা শিমুলতলি জুনিয়ার হাইস্কুলের শিক্ষক রাজা সরকার বলেন, বহু পড়ুয়া অভাবী পরিবারের। অনেকেরই স্মার্টফোনও নেই। তারা উপার্জনে নামায় ভবিষ্যতে পড়াশোনা থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাইল্ডলাইনের হলদিবাড়ি শাখার কোঅর্ডিনেটর মন্তোষ সরকার বলেন, যদি খুদেরা পড়াশোনা ছেড়ে উপার্জনের পথ বেছে নেয়, সেক্ষেত্রে শিশুশ্রম আইন কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন করা দরকার।