পরীক্ষা না হওয়ায় টিকে গেল রোজগার

173

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : পরীক্ষা হচ্ছে না, ভালোই হয়েছে। হলেই তো লস। সাফ কথা অর্জুন আর শিবা শৈব্যর। দুজনেরই বয়স ১৮ ছুঁইছুঁই। অর্জুন এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। শিবার মাধ্যমিক দেওয়ার কথা। করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরীক্ষা বাতিলের। অর্জুন, শিবা এত কিছু ভাবেনি। ক্লাসে পাটিগণিতের অঙ্ক কষেই তারা বুঝেছে, ৫-৬ দিন ধরে পরীক্ষা দিলে আর্থিক ক্ষতি কতখানি। সংসার টানতে গত বছর থেকেই ওই দুজন উপার্জনে নেমেছে। পরীক্ষা দিতে গেলে সেই দিনগুলোয় তো আর রোজগার হত না।

দুজনেরই বাড়ি নকশালবাড়ির কালুয়াজোতে। শিবা শৈব্য অন্যের জমিতে খেতমজুর হিসেবে কাজ করে। অর্জুন রাজমিস্ত্রির লেবার। ‘সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ি। বাবার সঙ্গে মিলে কাজ করি। মজুরি পাই সাড়ে তিনশো টাকা। জুন-জুলাই মাস আমাদের বিজি টাইম। এই সময় সাতদিন ধরে পরীক্ষা দিলে আমাদের চলে নাকি?’ পড়াশোনা শিকেয় উঠলেও টাকার হিসেব কষার সময় মাথা একদম পরিষ্কার নকশালবাড়ি নন্দপ্রসাদ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র শিবার।

- Advertisement -

শিবার বাড়ির কয়েকটা বাড়ি পরেই অর্জুনদের বাড়ি। সেও একই স্কুলের ছাত্র।  কলা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। সকাল হলেই অর্জুন রাজমিস্ত্রির কাজে বেরিয়ে পড়ে। সারাদিন কাজ করে হাজিরা চারশো টাকা। যদি উচ্চমাধ্যমিক হত তাহলে পাঁচদিনে হাজিরার দুহাজার টাকা তো আর পেত না। এতদিন কামাই না হলে বাড়িতে হাঁড়ি চড়ত কী করে? সোজা প্রশ্ন অর্জুনের।

অর্জুনদের দুটো ঘর টিন দিয়ে ঘেরা। বাঁশের বেড়া দেওয়া বারান্দা। বাবা আর মা মেচি নদীতে পাথর ভাঙার কাজ করেন। তবে লকডাউনের সময় থেকে কাজ মিলছে না বললেই চলে। শিবাদের বাড়ির চেহারাটা একটু ভালো। তারা বছর দুয়েক আগে আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছে।

নকশালবাড়ি স্টেশন মোড় থেকে সোজা পশ্চিম দিকে এগোলে সীমান্ত লাগোয়া মেচি নদীর ধারে কালুয়াজোত গ্রাম। রাস্তাতেই দেখা মিলল অর্জুনের। দিনভর টানা খাটনির জেরে পাকানো চেহারা, কম উচ্চতা।  হাফপ্যান্ট, গেঞ্জি পরা অর্জুন বেলচা দিয়ে বালি-পাথর তুলছিল। পরীক্ষার কথা  জিজ্ঞেস করতেই সোজা উত্তর, দুবছর ধরে স্কুল যাইনি। ঝামেলা না করে সবাইকে পাশ করে দেওয়াটাই তো ভালো।