জাকির হোসেন, ফেশ্যাবাড়ি : উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের প্রত্যন্ত প্রেমেরডাঙ্গার মন্ডা এখনও খাদ্যরসিকদের দারুণ প্রিয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রিটি তো বটেই, এক সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধিও প্রেমেরডাঙ্গার মন্ডা খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। মন্ডার টানে প্রতিদিন  জেলার বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর খাদ্যরসিক আসেন প্রেমেরডাঙ্গা বাজারে মন্ডার স্বাদ নিতে। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক তরুণকুমার ধর এখনও ওপার বাংলার মুক্তাগাছার মন্ডার স্বাদ দিচ্ছেন এখানে।

তরুণবাবু বলেন, ওপার বাংলার ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা এলাকায় থাকতেন আমাদের পূর্বপুরুষরা। মুক্তাগাছার মন্ডা বিখ্যাত। সেখানে আমার মায়ে বাবা যতীন্দ্রমোহন দে গোপাল পালের কাছে মন্ডা বানানোর কৌশল শিখেছিলেন। দেশ ভাগের সময় পরিবার প্রেমেরডাঙ্গায় চলে আসে। ১৯৬০ সাল থেকে প্রেমেরাডাঙ্গায় মন্ডা বানানো শুরু করেন দাদু। তাঁর কাছে আমি মন্ডা বানানো শিখেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে ১৯৯১ সাল থেকে পুরোনো ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে মন্ডা বানাচ্ছি আমি। তবে পেশা হিসেবে নয়, নেশার টানেই মন্ডা বানাই।

বাজার চলতি মন্ডার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই মন্ডা। এর স্বাদ একবার নিলে ভোলা যায় না বলে খাদ্যরসিকরা জানিয়েছেন। শিক্ষকতার ফাঁকে এখনও প্রতিদিন মন্ডা বানাই কারণ বাজারে এর চাহিদা তুঙ্গে। তরুণবাবু জানান, প্রতিদিন সকালে বিশেষ পদ্ধতিতে ছানা ও সামান্য চিনি দিয়ে এক কড়াই মন্ডা আমাকে বানাতেই হয়। শীতের মরশুমে অবশ্য ছানার সঙ্গে খেজুর গুড় মিশিয়ে মন্ডা বানাই। তারপর স্কুল যেতে হয়। বিয়ের মরশুমে বাড়তি চাহিদা থাকে মন্ডার।  তিনি বলেন, প্রতিদিন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি সহ দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ এখানে মন্ডা খেতে আসেন। খাওয়ার পরে আত্মীয়স্বজনদের জন্য নিয়ে য়ান। তিনি বলেন, মাথাভাঙ্গা শহরে এক কর্মসূচিতে এসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি আমার দাদুর হাতে বানানো মন্ডা খেয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সকলে প্রশংসা করেন। তাই রোজ বাড়তি উত্সাহ নিয়ে মন্ডা বানাই। প্রেমেরডাঙ্গা বাজারে রয়েছে তাঁর এই ছোট্ট দোকান। স্ত্রী, পুত্রকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার।

খাদ্যরসিকদের কথায়, উত্তরবঙ্গের যে কোনো জায়গায় প্রেমেরডাঙ্গার কথা উঠলেই মন্ডার প্রসঙ্গ চলে আসে। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক অজিতকুমার দে বলেন, দেশ ভাগ হয়ে গেলেও ওপার বাংলা এবং এপার বাংলাকে এক স্বাদে বেঁধে রেখেছে প্রেমেরডাঙ্গার এই বিখ্যাত মন্ডা।