করোনার আঁতুড় উহানে মঙ্গলবার স্কুল খুলছে

793

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী মঙ্গলবার থেকে চিনের উহান শহরের সমস্ত স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন খুলতে চলেছে। সেখানে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

উহানের স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শহরের ২ হাজার ৮৪২টি স্কুল খুলতে চলেছে। সেগুলিতে ১.৪ মিলিয়ন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। পড়ুয়াদের মাস্ক পড়ে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে। গত সোমবার উহানের সমস্ত ইউনিভার্সিটি খুলেছে। ১৮ মে’র পর থেকে চিনের ওই শহরে নতুন করে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে উহান এবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চলেছে।

- Advertisement -

এই সেই উহান, যেখান থেকে করোনা সংক্রমণের সূচনা। উহানের কাঁচা মাংসের বাজার থেকেই যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। যদিও চিন কখনও তা স্বীকার করেনি। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানী সহ অন্য দেশগুলির চাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি কী, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্টভাবে কিছুই জানায়নি।

এদিকে, বিশ্বে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। করোনা সংক্রমণে কীভাবে লাগাম টানা যায়, তা জানা নেই কারও। করোনা নিয়ন্ত্রণে নাজেহাল আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ। এখনও পর্যন্ত বিশ্বে ২ কোটি ৪৭ লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৮ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনার বলি হয়েছেন।

অন্যদিকে, চিন থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পরলেও সেদেশে করোনা পরিস্থিতি খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। এমনকি করোনার আঁতুড় উহানেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। যার ফলে বেশকিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। করোনা ভাইরাস কী তবে চিনের পূর্ব পরিকল্পিত? বা এটা কি চিনের ‘জৈব অস্ত্র’? এসব প্রশ্ন আগেও উঠেছে, ফের উঠতে শুরু করেছে।

দেখা যাচ্ছে, করোনার সময়কালে চিনা আগ্রাসন আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। সেটা লাদাখ হোক বা দক্ষিণ চিন সাগর বা তাইওয়ান। সর্বত্রই চিনের আগ্রাসনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এছাড়া করোনার সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্তৃত্ব স্থাপনের চেষ্টা করছে চিন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে চিনা সরকার। পাশাপাশি নেপালের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। সেই সখ্যতা যদিও পরিবর্তীতে নেপালের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা খেলেও চিনের অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। তারা দ্রুতই করোনা ধাক্কা সামলে উঠেছে।