চেনা ছন্দে ফিরল স্কুল, কোভিডবিধি মেনে চলছে পঠনপাঠন

140

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: দীর্ঘদিন পর রাজ্যে খুলল স্কুল। কোভিডবিধি মেনে শুরু হল পঠনপাঠন। মঙ্গলবার সরকারি নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের অন্য এলাকার পাশাপাশি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলাতেও স্কুল-কলেজ খুলেছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হয়। থার্মাল গান দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মেপে ও স্যানিটাইজ করে পড়ুয়াদের বিদ্যালয়ে ঢোকানো হয়েছে। মিষ্টি দিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে স্বাগত জানানোর ছবিও চোখে পড়েছে।

এদিন কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ছাত্রছাত্রীদের স্কুল যেতে দেখা গিয়েছে। রামভোলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার দাস বলেন, ‘অনেকদিন পর আবার চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে। এতে আমরাও আনন্দিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করানো হচ্ছে।’

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিদ্যালয় ঢুকতে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা। বিদ্যালয়ে ঢোকার আগে পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের স্যানিটাইজ করা হয়। শরীরের তাপমাত্রাও মাপা হয়। বেশকিছু বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানান শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের বিভিন্ন স্কুলেও এই ছবি চোখে পড়েছে।

ডালখোলার স্কুলগুলিতে শুরু হয় পঠনপাঠন। এদিন স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার কম হলেও উপস্থিত পড়ুয়াদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ছাত্র ছাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে মাস্ক তুলে দেয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা। যদিও ডালখোলা হাইস্কুলের ক্লাস রুমের সামনে বেশ কয়েক জায়গায় ভ্যাকসিনের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ ছড়ায় পড়ুয়া তথা অভিভাবক মহলে।

খড়িবাড়ি ব্লকের সমস্ত হাইস্কুলগুলিতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর গতানুগতিক পদ্ধতিতে পাঠদান পক্রিয়া শুরু হল। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ধরে অনলাইন ক্লাসের একঘেয়েমি কাটিয়ে এদিন স্কুলে আসেন পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কোভিড প্রোটোকল মেনে সামাজিক দূরত্ব মেনে পড়ুয়ার সংখ্যা অনুযায়ী শ্রেণিভিত্তিক সেকশন সংখ্যা বৃদ্ধি করে পাঠনদান পক্রিয়া চালু করা হয়। তবে গ্রামীণ এলাকায় বেশিরভাগ স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ছিল ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ।

মানিকচকের বিভিন্ন স্কুলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে থেকেই স্কুল গেটের সামনে ছাত্রছাত্রীদের জটলা দেখা যায়। স্কুল জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দ হার মানিয়েছে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ককে। মানিকচক শিক্ষা নিকেতন, এনায়েতপুর ইএ হাইস্কুল, মথুরাপুর বিএসএস হাই স্কুল সহ বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানাতে দেখা যায়।

গঙ্গারামপুরে গোলাপ ফুল দিয়ে ও ব্যান্ড বাজিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে স্বাগত জানালেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। ঘটনায় যথেষ্টভাবে উচ্ছাসিত ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা। গঙ্গারামপুরের জাহাঙ্গীরপুর উচ্চবিদ্যালয়ে স্কুল গেট সাজানো হয় রং বেরংয়ের বেলুন দিয়ে। এনসিসি সদস্যদের ব্যান্ডে উৎসবের চেহারা নেয় স্কুল চত্বর। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজিদুর রহমান সহ সহ শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্রছাত্রীদের গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

দীর্ঘদিন বাদে ক্লাস খোলার আনন্দে শামিল হল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী জেনকিন্স স্কুলের পড়ুয়ারা। প্রায় দেড় বছর বাদে স্কুল খোলার পর কোভিডবিধিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায় পড়ুয়াদের মধ্যে। জেনকিন্সের পাশাপাশি কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী সুনীতি একাডেমির ছবিটাও ছিল অনেকটা একইরকম। দীর্ঘ দিন বাদে বান্ধবীদের আবার পাশে পেয়ে হৈ-হুল্লোড়ে মেতে ওঠে স্কুলের ছাত্রীরা। সব মিলিয়ে ফের পুরোনো ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে কোচবিহারের স্কুলগুলি।

নাগরাকাটার বিভিন্ন হাইস্কুলও এদিন খুলে যায় কোভিডবিধি মেনেই। এদিন স্কুলগুলির তরফে গেটের সামনে থার্মাল গান দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ছিল হাত স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থাও। মুখে মাস্ক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের প্রবেশ করানো হয়।

এদিন থেকেই দিনহাটার গোসানিমারি গার্লস হাইস্কুলের পথচলাও শুরু হল। প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১১ সালে গোসানিমারি জুনিয়ার গার্লস স্কুলটি স্থাপিত হয়। এতদিন এটি জুনিয়র হাইস্কুল ছিল। সম্প্রতি মধ্য শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পেয়ে এটি হাইস্কুলে উন্নীত হয়। সেই হিসেবে এই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ছাত্রীরা এদিন তাদের নিজের স্কুলেই নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা শুরু করল।

মঙ্গলবার থেকে মালবাজারের স্কুলগুলিও খুলে যায়। এনিয়ে এদিন পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাল আদর্শ বিদ্যাভবন, মালবাজার সিজার স্কুল সর্বত্রই কোভিডবিধি মেনেই চারটি ক্লাসের পঠনপাঠন শুরু হয়।

এদিন খুলে যায় হেলাপাকড়ি পিইউআর হাইস্কুল। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সহ অশিক্ষক কর্মীরা সকলেই এদিন যথা সময়ে স্কুলে হাজির হয়েছেন। তবে পড়ুয়াদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিল একেবারেই কম।

এদিন মেটেলি ব্লকের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন বিডিও বিপ্লব বিশ্বাস। কোভিডবিধি মেনে স্কুল চলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। মেটেলির পূর্ব বাতাবাড়ি সিএম উচ্চবিদ্যালয়, বিধাননগর উচ্চবিদ্যালয়, চালসা গয়ানাথ বিদ্যাপীঠ, মেটেলি উচ্চবিদ্যালয়, রাষ্ট্রভাষা ও সামসিং উচ্চবিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজ্যের অন্য এলাকার পাশাপাশি বালুরঘাটেও স্কুল খুলেছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্বাভাবিক পঠনপাঠন হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে পড়ুয়াদের শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়। স্যানিটাইজ করে ও তাপমাত্রা মেপে পড়ুয়াদের স্কুলে ঢোকানো হয়েছে।