গাছের নামে জুড়ল শিলিগুড়ি, বিশ্বের দরবারে শহর

237

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : শহরের মাথায় জুড়ল নতুন পালক। পৃথিবীর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদের তালিকায় এবার যুক্ত হল শিলিগুড়ির নাম। শিলিগুড়ি থেকে চিহ্নিত হল নতুন প্রজাতির এক উদ্ভিদ। শিলিগুড়ির নামে তার নাম দেওয়া হয়েছে টোরেনিয়া শিলিগুড়িয়েন্সিস। এবার থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের চর্চায় বিশ্ব নতুনভাবে চিনবে উত্তরবঙ্গের এই শহরকে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মনোরঞ্জন চৌধুরী এবং গবেষক আরাত্রিক পাল যৌথভাবে উদ্ভিদটি চিহ্নিত করেছেন। এই প্রথম শিলিগুড়ির নামে কোনও উদ্ভিদের নামকরণ করা হল বলেই জানিয়েছেন মনোরঞ্জনবাবু। সিবি ক্লার্ক, জেডি হুকারের মতো বিশ্বখ্যাত উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা একসময় দার্জিলিং, তরাই সহ হিমালয়ে পার্বত্য এলাকায় কাজ করেছেন। একাধিক উদ্ভিদ চিহ্নিত করেছেন। সেগুলির কোনওটির নামের সঙ্গে বেঙ্গল বা হিমালয়ান শব্দ যুক্ত করেছেন। তবে উত্তরবঙ্গের কোনও এলাকার নামে উদ্ভিদের নামকরণ আগে হয়নি বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা।

- Advertisement -

মনোরঞ্জনবাবু জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর একটি জলাশয়ের ধারে প্রথমবার তাঁরা উদ্ভিদটি দেখতে পান। সেটি সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োসিস্টেম্যাটিকস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই উদ্ভিদটির চরিত্র বুঝে অন্যত্র তার খোঁজখবর শুরু হয়। তরাই ও ডুয়ার্সের একাধিক এলাকায় নদী ও জলাশয়ের ধারেও উদ্ভিদটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

গাছের নামে জুড়ল শিলিগুড়ি, বিশ্বের দরবারে শহর| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaএরপর সমগোত্রীয় উদ্ভিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদটির মিল ও অমিলগুলি খুঁজে বের করেন গবেষকরা। বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের পর তাঁরা উদ্ভিদটির পৃথক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত হন। ইউরোপের দুজন বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী গবেষণাপত্র যাচাই করেন। আর তারপরই চিহ্নিত উদ্ভিদের বিষয়ে তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ফিনল্যান্ডের জার্নাল আনালস অফ বোটানিসি ফেনিসিতে। ৫ মে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় এবং তালিকাভুক্ত হয় টোরেনিয়া শিলিগুড়িয়েন্সিস।

দুই গবেষক জানিয়েছেন, উদ্ভিদটি চিহ্নিত হলেও তার সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানা বাকি রয়েছে। হিমালয়ের কোন স্তর বা কতটা উচ্চতা পর্যন্ত উদ্ভিদটি পাওয়া যেতে পারে বা উদ্ভিদটির কোনও ঔষধি গুণাগুণ আছে কি না সেটা জানার জন্য আরও চর্চা করতে হবে। সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।  মনোরঞ্জনবাবু বলেন, টোরেনিয়া শিলিগুড়িয়েন্সিস একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের চর্চায় যেমন একটি নতুন গাছের সংযোজন হল, তেমনই সেই গাছটির মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গ তথা শিলিগুড়ির নামও অমর হয়ে থাকবে। গাছটি চিহ্নিতকরণের স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। এবার গাছটির অন্যান্য গুণাগুণও খুঁজে বের করা হবে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সুভাষচন্দ্র রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, উত্তরবঙ্গের জন্য এটা গর্বের খবর। দার্জিলিং সহ হিমালয়ে পার্বত্য এলাকা থেকে চিহ্নিত হলেও অনেক প্রজাতির নামে যুক্ত হয়নি স্থানীয় এলাকার নাম। তাই শিলিগুড়ির নামে উদ্ভিদের নামকরণের তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, গবেষকদের এই কাজ অন্যদের উৎসাহ বৃদ্ধি করবে।