ধরুন আপনি যা চান তা-ই পেযে গেলেন। কিন্তু একইসঙ্গে, যা কখনওই চান না, যা ভাবতেও পারেন না, সেটাও হল আপনার সঙ্গে। সেরকমই এক মাযে গল্প বলব আপনাদের। বরং বলা ভালো, এটা হল এক মা আর মেযে গল্প। মেযে নাম ইউনা, কোরিয ভাষায যার অর্থ বরফের মেয়ে টেক্সাসের হিউস্টন শহরে ইউনার যখন জন্ম হয, সেটা ছিল ২০১০ সালের জানুযারি মাস। খুব বরফ পড়ছিল। তাই মা সু-কিউং লি আর বাবা জে লি আদরের মেযে নাম রাখেন ইউনা। ইউনা লি। ইউনার মা-বাবা দুজনেই বিজ্ঞানী। জটিল এক রোগ নিযে তাঁরা গবেষণা করছেন। সারা পৃথিবীতে বড়োজোর শ-তিনেক মানুষের এই অসুখ আছে। অসুখটার নাম ফক্সজি ওযান। জিনঘটিত জটিল এই রোগের কারণে শিশুর মস্তিষ্ক ও বুদ্ধির বিকাশ হয় না। ইউনার মা-বাবা দুজনেই গবেষণা করেন অরিগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে। একটা সময ছিল, যখন সু-কিউং প্রাযই জে লি-কে বলতেন, যদি এমন কাউকে পাওযা যেত যাঁর এই রোগ রয়েছে, তাহলে মস্তিষ্কের বেড়ে ওঠার সমযে ঠিক কীভাবে এটা কাজ করে তা ভালো করে বোঝা যেত।

কিন্তু সমস্যা হল, এই অসুখে একজনের লক্ষণের সঙ্গে আরেকজনেরটা মেলে না। তো, এরকমই একসময ইউনা এল তাঁদের জীবনে। ছোট্ট ফুটফুটে মেযে আর পাঁচটা বাচ্চার মতোই। খিলখিল করে হাসছে। ঝুমঝুমির শব্দে সারা ঘরে চোখ ঘুরছে। কিন্তু আস্তে আস্তে সব বদলে গেল। ছোট্ট ইউনা কোনও শব্দেই আর সাড়া দেয না। এমনকি মাযে বুক থেকে বা ফিডিং বোতল থেকে দুধটুকুও সে গিলতে পারছে না। খেলেও বমি করে ফেলছে। বিজ্ঞানী হলেও বাবা-মাযে মন তো আর পালটে যায না। দিশেহারা হযে ইউনাকে নিযে তাঁরা ছুটলেন ডাক্তারের কাছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার বললেন, ইউনার নাকি মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বেড়ে উঠছে না। পাগলের মতো অবস্থায সু-কিউং ভাবতে লাগলেন, কেন এমন হল? ইউনা যখন পেটে, তখন কি ভুল কিছু খেযেি? কোনও কিছু থেকে বিষক্রিযা হয়েছে ? আচ্ছা, ওইসময তো ওকে পেটে নিযে কত জাইগায় সেমিনার করতে দৌড়েছি। সেজন্য কিছু হযনি তো?

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিযা অ্যান্ড সানফ্রান্সিস্কোর অধ্যাপক তথা নিউরো-রেডিওলজিস্ট জিম বারকোভিচের কাছে পাঠানো হল ইউনার সব রিপোর্ট। সেগুলো দেখে সু-কিউংকে তিনি মেইল করলেন। বারকোভিচ জানালেন, তাঁর মনে হচ্ছে ইউনা ফক্সজি ওয়ানে আক্রান্ত। সু-কিউং এটা ভাবতেও পারেননি। ঘুণাক্ষরেও এই কথাটা তাঁর মাথায় আসেনি কখনও। চোখের সামনে দেখতে পান আদরের ইউনা আরও অসুস্থ হযে পড়ছে। কীভাবে ওকে ফিরিযে আনা যাবে, এত বড়ো বিজ্ঞানী হযে বুঝতে পারছেন না।

একদিকে গবেষণার লক্ষ্যে অবিচল সু-কিউং, আরেকদিকে তাঁর মাতত্ব। এই দুযে মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলছেন তিনি। যে জটিল অসুখ নিযে গবেষণা করছিলেন, সেই অসুখেই তাঁর মেযে আক্রান্ত। ইউনার বযস এখন আট। ইউনাকে ঘরের দেওযালের কাছে দাঁড় করিযে সু-কিউং তার হাত ছেড়ে দেন কযে সেকেন্ডের জন্য। যদি কিছুক্ষণও সে একা একা দাঁড়িযে থাকতে পারে তাহলে সেটাই বিরাট সাফল্য। বারকোভিচ জানিযেিলেন, খুব সম্ভবত ইউনার মস্তিষ্কের কোশগুলো মরে যাচ্ছে। অথচ ছোট্ট ইউনা হাল ছেড়ে দেযনি। যখন ওর ছ-বছর বয়স, তখন একদিন আধোঘুমে ইউনার পাশে শুযে সু-কিউং দেখতে পান, ইউনা একা একাই উঠে বসেছে। রাতে বাবার গিটার শুনতে শুনতে এখন মাথা নাড়ায ইউনা। বাবার আশা, মেয়ে তিনি চোখের ইশারায খেলনা কিংবা বই বেছে নিতে শেখাবেন।

সু-কিউং বলেন, একসময খুব ভয পেতাম। ভাবতাম কাল ও হযতো আর থাকবে না। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা নিযে ইউনা এমন কিছু কাজ করছে যা আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। তাহলে কীভাবে বলি যে কাল ও আরও অন্য কিছু করতে পারবে না? এখন তাই ইউনাকে দেখেই বিজ্ঞানী সু-কিউং এই রোগের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। আর মা সু-কিউং জানেন, বিজ্ঞানী সু-কিউং সফল হলে তাঁর মেযে ইউনাও বাঁচবে।