আমাদের বাঁচাও, আবেদন মানচিনির কাছে

লন্ডন : বাঁচাও রবার্তো।

স্বাধীন স্কটল্যান্ডের সমর্থক দ্য ন্যাশনাল সংবাদপত্রের আবেদন ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনির কাছে। শনিবার তাদের প্রথম পাতায় মানচিনিকে দেখানো হয়েছে স্কটিশ যোদ্ধা উইলিয়াম ওয়ালেস (তাঁর জীবনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্রেভহার্ট সিনেমা) হিসেবে। তাঁর কাছে আবেদন, বাঁচাও রবার্তো, তুমিই আমাদের শেষ আশা। আমরা আরও ৫৫ বছর ওদের (ইংল্যান্ডের) এই জয়ের গল্প সহ্য করতে পারব না।

- Advertisement -

রবিবাসরীয় মেগা ফাইনালে ফুটবলারদের ছাপিয়ে ইতালির প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছেন মানচিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলটি তাঁর যাদুকাঠির ছোঁয়াতেই বদলে গিয়েছে, একবাক্যে মানছেন সকলেই। যেমন ইতালির লিগে খেলা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ডিফেন্ডার পল ইলিয়ট। নিজে ব্রিটিশ হলেও ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের কোচকে কুর্নিশ জানিয়ে বললেন, রবার্তো দলটাকে দারুণভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার মতো তরুণ অথচ অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে কাজে লাগিয়েছে। লিওনার্দো বোনুচ্চি ও জিওর্জিও চিয়েলিনির বয়স হয়েছে, আগের মতো গতি নেই। কিন্তু পজিশনিং সেন্স চমৎকার। মানচিনি সেটাই ব্যবহার করছে।

এই সেন্টার ব্যাক জুটির কথাতেও কোচের জন্য সম্মান রয়েছে। চিয়েলিনির কথায়, প্রথম থেকেই কোচ আমাদের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বলেছে। আমরা তখন তাঁকে পাগল ভেবেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে ও দলকে সেই কাজের জন্য তৈরি করেছে। প্রতি ম্যাচের পর আমাদের বলত, একটা সেন্টিমিটার এগোলাম। সত্যিই এখন আমরা ইতিহাসের থেকে এক সেন্টিমিটার দূরে। তাঁর সঙ্গী বোনুচ্চির বক্তব্য, রবার্তো শুরুতে আমাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করার উপরে জোর দিয়েছিল। দলের আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান ও উৎসাহ বাড়িয়েছে। আমরা যাতে ওর ভাবনা ও কৌশলের উপর ভরসা করি, সেইদিকে নজর দিত। দল গড়ার সময় প্রতিভা ও মানের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। এটাই আমাদের ইউরোর ফাইনালে তুলে এনেছে।

এবার এই ধাপটা পার হলেই দাম পাবে মানচিনির ৩ বছরের পরিশ্রম।