কোচবিহারে নয়া বিপদ স্ক্রাব টাইফাসের হানা

182

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : একেই করোনায় রক্ষা নেই, স্ক্রাব টাইফাস দোসর। একদিকে কোচবিহার জেলায় দিন কে দিন করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে, আবার তারই মাঝে জেলায় স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। চলতি বছরে জেলায় তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরও বেশ কয়েকজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল।

গতবার থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জেলার প্রতিটি মহকুমা হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে এই রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ফলে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে সহজেই মহকুমা হাসপাতালগুলিতেই রোগ নির্ণয় করা যাবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রণজিৎ ঘোষ বলেন, এবছর তিনজনের এই রোগ ধরা পড়েছে। এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি মহকুমা হাসপাতালগুলিতেও করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেগুলি বাস্তবায়ন করা হবে।

- Advertisement -

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, স্ক্রাব টাইফাসে কেউ আক্রান্ত হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, জ্বর ও গায়ে ব্যথা হয়ে থাকে। শরীর লাল দাগে ভরে যায়। এদিকে করোনা হলেও জ্বর হয়। সেইসঙ্গে সেক্ষেত্রেও মাথাব্যথা ও গায়ে ব্যথা হয়। আবার ডেঙ্গির সঙ্গেও স্ক্রাব টাইফাসের উপসর্গের মিল রয়েছে। তাই কারও এসব উপসর্গ দেখা দিলে তিনি আদৌ স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা পরীক্ষা না করে বোঝা সম্ভব নয়।

তবে স্বস্তির বিষয়, স্ক্রাব টাইফাস কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। এর চিকিৎসা রয়েছে। চলতি বছরে কোচবিহারে যে তিনজন সংক্রামিত হয়েছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের স্ক্রাব টাইফাসের জন্য স্ক্রিনিং করা হয়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাকটিরিয়াঘটিত এই রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র এক ধরনের জীবের কামড় থেকে এই রোগটি হয়। অতীতে কোচবিহার জেলায় এই ধরনের রোগ খুব একটা দেখা না গেলেও গত দুই-তিন বছর ধরে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরই জেলায় বেশ কয়েকজন করে এই ধরনের রোগীর সন্ধান মিলছে। গত বছর অগাস্টে কোচবিহার-২ ব্লকের টাকাগাছ এলাকার ৩২ বছরের এক যুবক এমজেএন মেডিকেলে মারা যান। দীর্ঘদিন থেকে তাঁর কিডনির সমস্যার জন্য ডায়ালিসিস চলছিল। তবে মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তাঁর স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। যেহেতু দু-তিন বছর ধরে কোচবিহার জেলায় এই ধরনের রোগীর সন্ধান মিলছে, তাই সাসপেক্টেড রোগীদের বেশি করে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

প্রতিটি মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগগুলিতে প্রতিদিনই বহু সংখ্যক জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা করাতে যান। তাঁদের কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে যাতে সেখানেই তাঁদের স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা করানো যায় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরীক্ষা চালু হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি আধিকারিকরা।