করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে কাজে ফিরলেন এসডিও

মালদা : করোনাকে হারিয়ে পুরোনো ছন্দে কাজে ফিরেছেন মালদা সদরের মহকুমা শাসক সুরেশচন্দ্র রানো। শুধু দপ্তরে বসে কাজই নয়, প্রয়োজনে ফিল্ডে গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখছেন তিনি। করোনা সংক্রান্ত বিষয়ক বিভিন্ন কাজের নজরদারিও চালাচ্ছেন। দপ্তরের অন্য কর্মী-আধিকারিকদের সাহস জোগাচ্ছেন। এদিকে দপ্তরের কর্তা সুস্থ হয়ে অফিসে যোগদান করায় স্বস্তিতে অন্য কর্মীরা। মহকুমা শাসক সংক্রামিত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়েছিলেন অনেকেই। সংক্রমণ ঠেকাতে দপ্তরের প্রায় প্রত্যেক কর্মীর লালা পরীক্ষা হয়। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। বর্তমানে আতঙ্ক কাটিয়ে সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরের কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে।

গত ২৮ জুন মহকুমা শাসকের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত ২৭ জুন তিনি লালা পরীক্ষা করান। তারপরেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে তাঁকে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কলকাতায় একটি কোভিড হাসপাতালে তিনি পাঁচদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। দ্বিতীয়বার লালা পরীক্ষা করা হলেও তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন। সেই মতো মালদা ফিরে এসে তিনি নিজের বাংলোতে ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গত মঙ্গলবার অফিসে যোগ দেন। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তবে অফিসে ও বাইরে কাজ করার সময় বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলছেন। নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করছেন। নিদিষ্ট সময় অন্তর স্যানিটাইজার ব্যবহার সহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন। সদর মহকুমা কার্যালয়ে বহু সাধারণ মানুষ কাজে আসেন। তাই মাঝেমধ্যে অফিসের দরজা সহ আসবাবপত্রগুলি স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

মহকুমা শাসক জানান, করোনাকে ভয়ে কিছু নেই। সাধারণ মানুষ সামাজিক ব্যবহার যেন না হারিয়ে ফেলেন। কেউ করোনায় সংক্রামিত হলে তাঁকে দূরে না সরিয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিন। সংক্রামিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সকলকে মনে রাখতে হবে, রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, রোগীর সঙ্গে নয়। জেলায় করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম থেকেই সামনের সারিতে থেকে কাজ করে চলেছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছেন জেলা শাসক থেকে শুরু করে অন্য কর্তারা। মাঝেমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে প্রশাসনিক কর্তাদের লালা পরীক্ষা করানো হয়েছে। মালদা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন।