ভেজাল সর্ষের তেলের কারখানা সিল, গ্রেপ্তার পাঁচ

152

চাঁচল: ভেজাল সর্ষের তেল কারখানার হদিস মিলল মালদা জেলার চাঁচল ২ ব্লকের কান্ডারণ এলাকায়। রবিবারে এই ঘটনায় চাঁচল মহকুমাজুড়ে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল তেল মিলের পর্দা ফাঁস করলেন চাঁচল মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে চাঁচল থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় ফুড সেফটি অফিসারকে। কারখানায় নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানো কয়েকহাজার টিন, ঢাকনা, রাসায়নিক দ্রব‍্য রঙ সহ তেল তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম মহকুমাশাসক বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ভেজাল তেল কারখানাটিও সিল করে দেওয়া হয়।

ভেজাল তেল কারখানার মালিক সঞ্জয় সাহা বর্তমানে পলাতক। তবে, কারখানার পাঁচজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হবে। প্রসঙ্গত, প্রায় চার বছর আগে কান্ডারণের এই ভেজাল তেল কারখানায় হানা দিয়েছিলেন তৎকালীন চাঁচলের মহকুমা শাসক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। এরপর গোপনে কারখানাটি চালু করা হয়। এদিন কারখানায় উপস্থিত কর্মীরা জানান, কিভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল তেল তৈরি করা হয়। তাদের মধ‍্যে কয়েকজন উত্তরদিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দা। পুলিশ প্রশাসনের তরফে বেশ কয়েকবার কান্ডারণে ওই ভেজাল তেল কারখানায় হানা দেওয়ার পরেও ফের কিভাবে কারখানাটি ফের চালু হল তা নিয়ে রহস‍্যে দানা বেঁধেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেজাল তেল কারখানার হদিস ছিল পুলিশের কাছে। পুলিশ সব জেনে শুনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

- Advertisement -

মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ‘ভেজাল তেল কারখানায় তৈরি তেলের নমুনা ফুড সেফটি অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। কি কি উপকরণ রয়েছে ভেজাল তেলে সেটা জানার জন্য ল্যাবে টেস্ট করতে বলা হয়েছে। এই কারখানায় মেয়াদ উত্তীর্ণ তেল, কম দামি তেলের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে গরম করে টিন ও বোতল বন্দি করা হত। যা খেলে গুরুতর রোগ অনিবার্য।‘ যদিও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ জানান, ভেজাল তেল কারখানার সমস্ত সরঞ্জাম সহ কারখানাটি সিল করা হয়েছে। মালিক পলাতক। তবে, কারখানার পাঁচজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারখানা মালিকের খোঁজ চলছে। তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।