শাক বিক্রি করে দিন গুজরান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পৃথ্বীর

577

দীপঙ্কর মিত্র , রায়গঞ্জ: দু’বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে পড়াশোনা বন্ধ রেখে সকাল হলেই বাজারে শাক নিয়ে বসতে হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পৃথ্বীকে। কোনও দিন ৫০ টাকা,আবার কোনও দিন ৩০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয় তাঁকে। মামী বা মাসিরা চাল, ডাল বা আনাজ দিলে দু’বেলা হাঁড়ি চড়ে, না হলে মুরি খেয়েই কাটাতে হয় দিন। তবুও পৃথ্বীর চোখে স্বপ্ন আছে, সফল হওয়ার বাসনা আছে। সে চায় কেউ পাশে এসে দাঁড়াক। দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের লড়াইয়ে পড়াশোনা পৃথ্বীর উঠেছে শিঁকেয়।

দেবীনগরের বাসিন্দা পৃথ্বী দাস।তাঁর জন্ম বিহারের কাটিহারে। বাবা-মায়ের দাম্পত্যকলহের কারণে রায়গঞ্জে চলে আসতে হয় তাঁকে। মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে দাদুর কাছেই থাকত সে। স্থানীয় দেবীনগর কৈলাশ চন্দ্র রাধারানী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ থেকে ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর সেখানেই কলা বিভাগে ভর্তি করে দেয় দাদু।

- Advertisement -

পৃথ্বী জানায়, মাধ্যমিক পাস করার পর থেকে দাদু তাঁর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে।নিজের ব্যবস্থা নিজেকে করে নিতে বলে তাঁকে।বাধ্য হয়ে সে একটি দোকানে মাসিক ২০০০ টাকা বেতনে কাজে ঢোকে। কিন্ত পড়াশোনা সেভাবে কিছুই হচ্ছিল না। লকডাউনের সময় দোকানের কাজটা চলে যাওয়ায় বিপদে পড়ে যায় সে। বাধ্য হয়ে পড়াশোনার খরচ তোলার পাশাপাশি সারাদিনের খাবার জোগাড় করতে দেবীনগর বাজারে শাক সবজি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় পৃথ্বী। এপ্রিল মাস থেকে শাক সবজি বিক্রি করে কোনো মতে দিন চলছে তাঁর।

পৃথ্বী বলে, ‘বাবা অনেক টাকা দিয়েছিল আমাকে মানুষ করার জন্য। কিন্তু দাদু এখন আমাকে আর খাওয়াতে এবং পড়াতে চাইছে না। এই অবস্থায় কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। দাদুর বাড়িতে এক কোনে আমাকে থাকতে দিয়েছে। রান্না করে খেতে হয়। গ্রামে গ্রামে গিয়ে শাক সবজি কিনে আনতে হয়। সেই সবজি নিয়ে সকাল হলেই বাজারে যেতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে পড়াশোনাটা বন্ধ হয়ে যাবে।’

সে আরও জানায়, কয়েক জন শিক্ষক বিনা বেতনে টিউশন পড়ান এবং স্কুল থেকে বই ও খাতা দেওয়ায় পড়াশোনাটা চলছে তাঁর।
রাজ্য সরকারের থেকে ১০,০০০ টাকা পেলে মোবাইল কিনবে কি না জানেনা, তবে কিছুদিনের খাবার জোগাড় করতে পারব নিশ্চয়ই বলেও জানায় সে।

স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করে দিয়েছেন। টাকা পেলে এ্যাকাউন্টে জমা হবে। দেবীনগর কৈলাশ চন্দ্র রাধারানী উচ্চ বিদ্যাপীঠের পরিচালন কমিটির সদস্য বিকাশ মন্ডল বলেন, ‘স্কুল থেকে পড়াশোনার জন্য সাহায্য করা হয়। মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্য করি। কিন্তু খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছে ছাত্রটি। পঞ্চায়েত থেকে কোনো ভাবে সাহায্য করা যায় কিনা দেখব।’