গোপনে উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের চিনা ভ্যাকসিন, গোয়েন্দাদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

364

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, গুয়াহাটি : ভারতে করোনার প্রথম ঢেউ আসার আগেই উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের বিশেষ ভ্যাকসিন দিয়েছে চিন। শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
২০২০ সালের জানুয়ারি মাস। তখনও ভারতে করোনার ঢেউ আসেনি। এমনকি এই ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথাও শুরু হয়নি। এমন সময়ই উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি জোট ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ওয়েস্টার্ন সাউথ ইস্ট এশিয়ার ৭৫ শীর্ষনেতাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ চিনা ভ্যাকসিন। দফায় দফায় চিন থেকে আনা সেই বিশেষ ভ্যাকসিন দেওযা হচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের। সূত্রের খবর, মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মির মধ্যস্থতায় ওই বিশেষ ভ্যাকসিন আসছে চিন থেকে। মাযানমারের ওয়াংবাসো এলাকার দুটি গোপন ঘাঁটিতে দেওয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। নেপালের চারটি ঘাঁটিতে এখনও জঙ্গিদের ভ্যাকসিন দেওযার কাজ চলছে বলে খবর। এছাড়াও কয়েকটি সংগঠন নিজেদের ডেরাতে ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছে।

লিবারেশন ফ্রন্টের চার সদস্য সংগঠন কেএলও, আলফা, এনডিএফবি এবং এনএসসিএন (খাপলাং গোষ্ঠী)-এর নেতারা কীভাবে আগেই ভ্যাকসিন পেল, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে গোয়েন্দা মহলে। করোনা যে ভারতে ভয়ংকর হতে চলেছে সেই খবর কি তবে আগেই পেয়েছিল জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতারা? করোনা মোকাবিলায় চিন কি আগেভাগেই ভ্যাকসিন তৈরি করে রেখেছিল? এই প্রশ্নগুলিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও কোনও গোয়েন্দা কর্তাই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

- Advertisement -

গোপনে উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের চিনা ভ্যাকসিন, গোয়েন্দাদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaসম্প্রতি দুই লিংকম্যানকে পাকড়াও করার পর বিশেষ ভ্যাকসিনের খবর জানতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় ১১টি জঙ্গি সংগঠনের দেড় হাজারের বেশি সদস্যকে চিনের বিশেষ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেই ভ্যাকসিন সম্পর্কে এখনই খোলসা করে কিছু জানাতে চাইছেন না গোয়েন্দারা। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা এবং ওয়ার্ল্ড ইজ ইওরস-এর কারবার চালানো দুটি চক্র জঙ্গিদের ভ্যাকসিনের টাকা স্পনসর করছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সম্প্রতি ত্রিপুরার দুই জঙ্গি সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স এবং ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরার কয়েকজন সদস্য করোনা সংক্রামিত হয়েছে। সংক্রামিত হয়েছে জোমি রেভোলিউশনারি ফ্রন্ট এবং গারো ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির বেশ কয়েকজন। নেপালের ঘাঁটিতে থাকা কেএলওর তিন সদস্যেরও সংক্রামিত হওয়ার খবর মিলেছে। সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা নিযে আতঙ্ক বাড়ছে জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে। তবে নিজেদের সুরক্ষায় চিনা ভ্যাকসিনের উপরই ভরসা রেখেছে ভারত বিরোধী শক্তিগুলি।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, চিন জঙ্গিদের জন্য যে ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে, সেই ভ্যাকসিন চিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই দেওযা হয়েছিল। ভারত বিরোধী কার্যকলাপকে শক্তিশালী করতেই চিন ওই ভ্যাকসিন জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে সরবরাহ করেছে। সেই সূত্রেই পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কাছেও প্রচুর পরিমাণে চিনা ভ্যাকসিন পৌঁছেছে। তবে এখনও পর্যন্ত সব জঙ্গি ওই ভ্যাকসিন পায়নি। সংগঠনগুলির একটি নির্দিষ্ট ক্যাটিগোরির সদস্যদেরই চিনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। লিংকম্যানের মাধ্যমে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (ফেডেরাল) এবং মণিপুর পিপলস লিবারেশন আর্মি মাসতিনেক আগে মায়ানমার থেকে ২০০টি চিনা ভ্যাকসিন মণিপুরে এনেছে বলেও জানা গিয়েছে।

কেএলও, আলফা এবং এনডিএফবির বেশিরভাগ সদস্য এখনও ভ্যাকসিন পায়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, যে পরিমাণ ভ্যাকসিন দরকার তা চিন থেকে নাও পাওয়া যেতে পারে বলেই তিন সংগঠন বেসরকারিভাবে ভারতীয় ভ্যাকসিন নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে। কয়েকটি নার্সিংহোম ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার চেষ্টা করছে তারা। এ বিষয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
উত্তরবঙ্গ ও নিম্ন অসমে ভ্যাকসিন প্রদানকারী বেসরকারি সংস্থার ভ্যাকসিনের হিসেবের উপর নজর রাখছেন তাঁরা। এক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কর্তা বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিতে এসেই দুই লিংকম্যান ধরা পড়েছিল। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু জানা গিয়েছে। সেইমতো নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ভ্যাকসিনের তথ্য সামনে আসতেই উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে চিনের যোগাযোগ স্পষ্ট হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই চিনের ভারত বিরোধী কার্যকলাপের আরও বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। প্রথম ঢেউ খানিকটা শিথিল হতেই নিম্ন অসম থেকে বেশ কিছু জঙ্গি নেপালের কয়েকটি ডেরায় আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, পুরোনো লিংকম্যানদের সরিয়ে ভ্যাকসিন আদানপ্রদানে নতুন লিংকম্যানদের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নেপাল ও মায়ানমারের মাধ্যমে চিন ভারত বিরোধিতায় নতুন কোনও পরিকল্পনা করছে কি না সেটা দেখতে হবে।