রোগী পরিজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে

318

বর্ধমান: আবারও কাটগোড়ায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। মেরে এক রোগীর আত্মীয়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। মারধরে রক্তাত হয়ে ওই রোগীর আত্মীয় হাসপাতাল চত্ত্বরে লুটিয়ে পড়লেও তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা টুকু করানোর মানসিকতা দেখায়নি অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীরা। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরথেকেই নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনরা। মারধোরের ঘটনার বিহিত চেয়ে রোগীর পরিবার হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বর্ধমান হাসপাতাল সূত্রে জানাগিয়েছে, বছর ৪০ বয়সী হিরালাল মিদ্দার বাড়ি বুদবুদ থানার সন্ধীপুরের। প্যাঙ্কাইটিস স্টোনের অপারেশনের জন্য গত মঙ্গলবার তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার তাঁর অপারেশনের দিন নির্দিষ্ট হয়েছিল। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মত হিরালাল বাবুর পরিবার দুই সদস্য ও দু’জন রক্তদাতা এদিন বেলায় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের গেটের কাছে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেখ কওসর আলি নামে একজন বাড়ি থেকে মাস্ক আনতে ভুলে যাওয়ায় মুখে রুমাল বেঁধে সেখানে দাড়িয়ে ছিলেন।

- Advertisement -

অভিযোগ, সেই সময়ে ওই জায়গায় কর্তব্যরত হাসপাতালের এক নিরাপত্তাকর্মী মাস্ক নিয়ে কৈফিৎ চেয়েই কওসর আলিকে গলা ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয়। নিরাপত্তাকর্মীর এই ব্যবহারের প্রতিবাদ করেন কওসর। অভিযোগ তখনই অপর আর এক নিরাপত্তাকর্মী লাঠি দিয়ে সজোরে কওসরের মাথায় আঘাত করে। রক্তাত হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন কওসর আলি। তারপরেও রেহাই মেলেনি। রোগী পরিবারের অভিযোগ, মারধরের পর নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে দেয়। গোটা ঘটনার পর রোগী হিরালাল মিদ্দার আত্মীয়রা কওসর আলিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করিয়ে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিরাপত্তা কর্মীরাও পল্টা রোগী পরিবারের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যহারের অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, রোগী পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সোমবার সকলে নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকা হয়েছে। লাঠি ছাড়া কাজ করার কথা নিরাপত্তাকর্মীদের। তা এদিনই বলে দেওয়া হয়েছে।