টাকা না দিলে মেঝেতে পড়ে থাকবে রোগী, হুমকি নিরাপত্তারক্ষীর

164

হরষিত সিংহ, মালদা : ৫০০ টাকা দিলেই বেড মিলবে। আর টাকা না দিলে রোগী মেঝেতে পড়ে থাকবে। এমনকি ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা পর্যন্ত মিলবে না। টাকা দিলে বেডের ব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও খামতি হবে না। জরুরি বিভাগ থেকে মুমূর্ষু এক রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় আত্মীয়ে কাছে এভাবেই টাকা চাইছিলেন মালদা মেডিকেলের এক নিরাপত্তাকর্মী। রোগীর আত্মীয়ের কাছে টাকা না থাকায় প্রথমে তিনি দিতে রাজি হননি। দুপক্ষের মধ্যে চলতে থাকা কথাবার্তা ওয়ার্ডে এসে পৌঁছায়। কিন্তু মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত ওয়ার্ডে না নিয়ে গিয়ে বাইরেই ট্রলি রেখে দেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। রোগীর আত্মীয়দের পরিষ্কার জানিয়ে দেন, টাকা না দিলে কোনওমতেই রোগীকে ওয়ার্ডের ভিতরে ঢোকাবেন না। এদিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে রোগীর ছেলে ৫০ টাকার একটি নোট ওই নিরাপত্তারক্ষীকে দিতে যান।

নিরাপত্তারক্ষীর জবাব, ৫০ টাকায় রোগী ভর্তি হয়, আরও দিতে হবে, আমরা ৪-৫ জন রয়েছি। নিরাপত্তারক্ষী জোর করতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১০০ টাকা দেন রোগীর ছেলে। কিন্তু ১০০ টাকায় মন না ভরায় রোগীকে বাইরে ছেড়ে চলে যান ওই কর্মী। অবশেষে আত্মীয়রাই ওই রোগীকে ওয়ার্ডের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বেডে রাখেন। মালদা মেডিকেলের মহিলা মেডিসিন বিভাগের সামনে দুপক্ষের মধ্যে এসব কথাবার্তা চলার সময় কিছুটা দূর থেকে আরেক রোগীর আত্মীয় গোটা ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন।

- Advertisement -

রোগীর ছেলে রমজান আলি বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালের কর্মীরা মাকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা প্রথমে আমার কাছে ৫০০ টাকা চায়। আমার কাছে বেশি টাকা না থাকায় সেই টাকা দিতে পারব না বলে জানিয়ে দিই। ওই কর্মী আমাকে চিকিৎসা না পাওয়ার ভয় দেখায়। শেষে যখন মাকে ওয়ার্ডের বাইরে রেখে দেয়, তখন আমি ১০০ টাকা দিই। কিন্তু তারপরেও মাকে বাইরে রেখে চলে যায়। আমরা গরিব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্য চিকিৎসা হয় জানি। কিন্তু কর্মীরা এভাবে টাকা নিলে আমরা কীভাবে চিকিৎসা করাব?

মালদা মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগীর নাম মাজুনা বেগম (৪০)। তার বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার লারিয়াল গ্রামে। শরীরের রক্তের সমস্যা নিয়ে বুধবার সন্ধেয় প্রথমে চাঁচল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদা মেডিকেলে রেফার করা হয় তাঁকে।

মালদা মেডিকেলের অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটায়ের পর কিছু নিরাপত্তারক্ষীকে হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগেও কর্মী সমস্যা থাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে লাগানো হয়েছে। ট্রলিতে করে তাঁরা রোগীদের ওয়ার্ডে নিয়ে যান। এদিন রোগীর আত্মীয়ের কাছে টাকা চাওয়ায় অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী জরুরি বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর কাজ করছেন। তবে ওই নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের পোশাকে না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর আত্মীয়দের একাংশ। বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মেডিকেলের কর্তারা। তবে অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীর নাম জানা যায়নি। অভিযুক্তের নাম জানতে ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করতে নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার কর্তাদের ডেকে পাঠান মেডিকেলের কর্তারা। মালদা মেডিকেলের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা এনিয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। তবে কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ করেননি। আমরা অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিচ্ছি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।