রায়গঞ্জ : দিন কয়ে আগের ঘটনা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্টেলে হামলা চালিয়েছিল বহিরাগত দুষ্কৃতীরা। আক্রান্ত হতে হয়েছিল আবাসিকদের। সেই সময়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষ খুব একটা সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না, তা ফের একবার সামনে এসেছে। সন্ধ্যার আঁধার নেমে আসতেই বহিরাগতরা ভিড় জমাচ্ছে ক্যাম্পাসের মাঠে। বসছে নেশার আসর। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও আলোর অভাবে সেভাবে কাজ করে না। ফলে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থার মধ্যে দাবি উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোর ব্যবস্থা করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের মাঠে বিদ্যুদায়নের কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠে ও হস্টেলের আশেপাশে আলোআাঁধারি হয়ে আছে। মাঠের তিনদিকের গেট খোলা। দেখা মিলল না নিরাপত্তাকর্মীর। মাঠের এবং রাস্তার অন্ধকারের মধ্যে দেখা গেল কিছু মাথা। নজরে এল মোবাইলের আলো। কলেজপাড়া থেকে হাতেগোনা মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের রাস্তা দিয়ে কাজ সেরে বীরনগরের অভিমুখে বাড়ি ফিরছেন। কেউ বা আবার ওই রাস্তা দিয়ে কলেজপাড়ার দিকে যাচ্ছেন। পুকুরপাড় দিয়ে আলো থাকলেও তা টিমটিম করে জ্বলছে। খেলার মাঠের পূর্বদিকে প্রাচীর ঘিরে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অনেকেই ভিড় করছেন। গার্লস হস্টেলের সামনে ও পিছনে আলো থাকলেও অধ্যাপকদের পুরোনো আবাসনের পিছনটা গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত। বীরনগরের এক বাসিন্দা হীরক মুখোপাধ্যায় জানান, রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঠের চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বহিরাগতদের ভিড় বাড়ে। ছেলেমেয়েরা রাস্তা দিয়ে একা ফিরতে ভয় পায়। কয়েদিন আগে বয়েজ হস্টেলে আবাসিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। তারপরেও মাঠ চত্বরে বহিরাগতদের ভিড় কমেনি। সন্ধ্যা হলেই বাইক নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মী জানান, মাঠের চারিদিক লাইট লাগানো ছিল। কিন্তু তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা যদি প্রতিবাদ করে তাহলে তো বাইরে থেকে কেউ এখানে আসতে পারে না। আমরা প্রতিবাদ করলেই আমাদের কপালে জোটে হুমকি। তাই আমরা চুপচাপ থাকি।

- Advertisement -

নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ১০৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মুখে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেতরে, ছাত্রছাত্রীদের আবাসের সামনের রাস্তা, বাগান সহ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ওই ক্যামেরাগুলি। সন্ধ্যা হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের আবাসের উলটোদিকের মাঠটিতে অন্ধকার নেমে আসায় ক্যামেরা থাকলেও কোনো কাজ করে না। এরই সুযোগ নিয়ে মাঠের চারিদিকে নেশার আসর রমরমিয়ে চলে। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১.১৬ একর জমির ওপর অবস্থিত। চারিদিক নজরদারি করতে ৩০জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্বরে কয়েটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় চিন্তিত কর্তৃপক্ষ। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনুপ কর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দিনে এবং রাতে বহিরাগতরা যাতে ভিড় না করে সেদিকে আমরা নজর রাখছি। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার দুর্লভ সরকার বলেন, ১০৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাশাপাশি চারিদিক বিদ্যুদয়নের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীরে লাইট লাগানো হয়েছে।