রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত তিনমাসে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় অন্তত ৩০টি চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে মাটিগাড়ায় বাড়িতে ডাকাতি, বর্ধমান রোডে ফিনান্স কোম্পানির অফিসে ডাকাতি, এটিএম কাউন্টার লুঠ, সোনার দোকানে কেপমারি, ওষুধের দোকানে চুরি, মোবাইলের দোকানে চুরি, ব্যস্ততম রাস্তায় ছিনতাই, একাধিক বাড়িতে চুরির মতো ঘটনা রয়েছে। এগুলির মধ্যে মাটিগাড়ায় ডাকাতি, আশিঘর ফাঁড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির কিনারা ছাড়া অধিকাংশ  মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে। কোনো মামলায় দুষ্কৃতীদের খোঁজে হন্যে হয়ে ভিনরাজ্যে ঘুরছে শিলিগুড়ি পুলিশ, আবার কোনো মামলায় দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

দিনের পর দিন ছিনতাই, চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় শহরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শাসকদল শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে শহরে ক্রমবর্ধমান চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, পুলিশকে আমরা বলেছি প্রতিটি মামলা ধরে ধরে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি নিজে পুলিশ কমিশনারকে বলেছি। ইতিমধ্যে অনেকগুলি মামলায় পুলিশ সফল হয়েছে। তবুও আমরা কোনো ঘটনাকে ছোটো করে দেখছি না। আমরা চাই দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওযা হোক। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, সবটাই সিস্টেমে চলে। আমার সঙ্গে প্রশাসনিক লেভেলে যেসব কথা হয় সবটা প্রকাশ্যে বলা যায় না। এটা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিষয়। তবে পুরো বিষয়ে সরকার সবসময় নজর রাখে। আমি নিজেও নজর রাখি। আর মুখ্যমন্ত্রী বারবার উত্তরবঙ্গে আসেন। সুতরাং সবারই নজর রয়েছে।

গত ২৩ অগাস্ট শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই রাতে মাটিগাড়া থানার হালের মাথা মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি এটিএম তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। এই দুটি ঘটনায় ডাকাতদলকে ইসলামপুর থেকে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু এটিএম ভাঙায় অভিযুক্তরা এখনও অধরা। তার পরদিন ২৪ তারিখ শিলিগুড়ির ফিনান্স কোম্পানির অফিসে ডাকাতি হয়। সেই ঘটনায় পাঁচজন গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্তরা অধরা। এই দুটি ঘটনার পর শহরে একাধিক এলাকায় এটিএম লুঠের চেষ্টা হয়েছে। এনজেপি থানা এলাকার জটিয়াখালি, শিলিগুড়ি থানা এলাকার রবীন্দ্রনগর, শিলিগুড়ি থানা এলাকার মহিলা কলেজের সামনে থেকে এটিএম তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। এগুলির মধ্যে জটিয়াখালিতে দুষ্কৃতীরা ভল্ট ভেঙে টাকা নিয়ে য়েতে সক্ষম হয়। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখনও দুষ্কৃতীরা অধরা। এগুলি ছাড়াও ৪ সেপ্টেম্বর কোর্ট মোড়ে হোটেলে চুরি, ওই দিনই হায়দরপাড়া এলাকায় সংবাদকর্মীর ব্যাগ ছিনতাই, ৭ সেপ্টেম্বর হাতিমোড়ে ওষুধের দোকানে চুরি, ৯ সেপ্টেম্বর হাকিমপাড়ায় বাড়িতে চুরি, ২৩ সেপ্টেম্বর তিলকসাধু মোড়ে সোনার দোকানে গ্রাহক সেজে ঢুকে কেপমারি, ১১ অক্টোবর মাতৃসদনের কাছে বাড়িতে চুরি, ১৫ নভেম্বর হাতিমোড় সংলগ্ন এলাকায় মোবাইলের দোকানে চুরি, ১৮ নভেম্বর কলেজপাড়া বিএসএনএল দপ্তরের সামনে ছিনতাইয়ে ঘটনাও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলাগুলির ৮০ শতাংশরই এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে এসএমএস করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওযা যায়নি।