জলের তলায় বীজতলা, দুশ্চিন্তা ধানচাষিদের

140

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: টানা লকডাউনের পর আমন ধানের চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন কয়েক হাজার কৃষক। কিন্তু কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির ফলে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিঘার পর বিঘা জমিতে থাকা আমন ধানের বীজতলা জলে ডুবে গিয়েছে। কৃষি দপ্তরের দাবি, ২৪ ঘন্টার বেশি বীজতলা জলে ডুবে থাকলে চারা ধান গাছ নষ্ট হয়ে যাবে।

এদিকে অনেক কৃষকের বীজতলা তিন দিন থেকেই জলমগ্ন। এর ফলে তাঁরা ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বৃষ্টি কমলে তাঁদের আরও নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে বীজতলার জন্য দ্বিগুণ খরচ হবে। সময় মত ধান লাগানোও যাবে না। এই পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান লাগানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যদিও কৃষি দপ্তর কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমার-১, শালকুমার-২, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি, পাতলাখাওয়া, চকোয়াখেতি, তপসিখাতা, পররপার সহ ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ এলাকাই কৃষি প্রধান। লকডাউনের সময় সবজির দাম না মেলায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় মরশুমি আমন ধানের চাষে কৃষকদের ঝোঁক বেড়েছিল। সেকারণে কৃষকরা এক-দু’সপ্তাহ আগে সার্টিফায়েড বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করেন।

ব্লকের ৫-৬টি ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানি প্রায় এক হাজার বিঘা জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করেছে। এই বীজতলা তৈরিতে উন্নতমানের ধান বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ প্রচুর টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু গত তিনদিন ধরে বৃষ্টির জেরে ব্লকের বিঘা পর বিঘা জমির বীজতলা জলের তলায় চলে গিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত চলবে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে সব বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও নতুন বীজতলা তৈরি করে আমন ধান লাগানো যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পাতলাখাওয়ার একটি ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানির ডিরেক্টর ধীরেন রায় বলেন, ‘লকডাউনের পর এই বৃষ্টির ধাক্কা কাটিয়ে আমন ধানের চাষ করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত।

ব্লকের ৫-৬টি ফার্মার্স প্রোডিসার কোম্পানির প্রায় ১ হাজার বিঘার বীজতলা জলের তলায় রয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট।’ ব্যক্তিগতভাবেও প্রচুর কৃষক বীজতলা তৈরি করেছেন। তাঁরাও ক্ষতির সম্মুখীন। শালকুমারহাটের কৃষক রমেশ রায় বলেন, ‘প্রায় দশ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর সিদ্বান্ত নিই। কিন্তু ধানের বীজতলা জলে ডুবে রয়েছে। কীভাবে এই ধাক্কা সামলাব বুঝতে পারছি না।’

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা অজিত রায় বলেন, ‘এই ব্লকে প্রায় পনেরো হাজার ছ’শো হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়। এখনও ৯৫ শতাংশ কৃষকই ধান লাগাতে পারেননি। এই সপ্তাহটাই ছিল ধান লাগানোর সময়। অনেকের বীজতলা তৈরি ছিল। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ২৪ ঘন্টার বেশি সময় জলে ডুবে থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য কৃষকদের মানষিকভাবে প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাঁদের নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। আমরা কৃষকদের পাশে রয়েছি। সবরকমভাবে তাঁদের সাহায্যের চেষ্টা করা হবে।’