প্রত্যন্ত অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা

123

রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সুবিধার্থে বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের টাকায় জেলায় মোট ৮টি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। জেলার ৮টি সীমান্তবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সেই অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর জেলার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মোট ৩০ জন মহিলাকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তারা যাতে গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করতে পারেন সেভাবেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এবার ওই ৩০ জন মহিলার মধ্যে থেকে ৮ জনকে এই অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা থেকে প্রসূতিদের সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি, ওই মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালকরা প্রয়োজনে অন্য রোগীদেরও নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছে দেবেন।

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুরের দক্ষিণ হেমতাবাদের ঠুনঠুনি গ্রামের বছর আঠাশের সেলেনি বেগম অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের তরফে জেলার ৭টি ব্লকের ৮টি সীমান্তবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি দেওয়া হয়েছে।’ চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি, ইসলামপুর ব্লকের মাটিকুন্ডা-২ ও আখডিমটিখুন্তি, গোয়ালপোখর-১ ব্লকের সাহাপুর-২, হেমতাবাদ ব্লকের হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ধনকইল, রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর ও করণদিঘি ব্লকের লাহুতারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলি দেওয়া হয়েছে।

এই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। এরকম প্রত্যন্ত এলাকায় এমনিতেই চিকিৎসা পরিষেবায় প্রচুর সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ওইসব গ্রামে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ায় বাসিন্দাদের ভালো সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা এখন সহজলভ্য হয়ে গেল। অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বেছে নেওয়ায় গ্রাম এলাকায় বিষয়টি সাড়া ফেলেছে। এতে একদিক থেকে গ্রামীণ এলাকার মানুষ যেমন সুবিধা পাবে তেমনি ওই সমস্ত এলাকার মহিলারাও স্বনির্ভর হবেন।