নির্বাচনের দিন ঘোষণায় এত তাড়াহুড়ো কেন, প্রশ্ন সেলিমের

155

কলকাতা: শুক্রবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরপরই দলের রাজ্যদপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহ: সেলিম প্রশ্ন তোলেন রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ যেখানে ৩০ মে পর্যন্ত রয়েছে সেখানে নির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এত তাড়াহুড়ো করার কি প্রয়োজন ছিল? তিনি প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দেন ৮ দফা নির্বাচন হলে তার সুবিধা অনেকটাই পাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলগুলি। কারণ তাদের হাতে রয়েছে অনেক ভলেন্টিয়ার। এছাড়া তাদের রয়েছে প্রভূত অর্থ বল। আগামী রবিবার তাঁরা যে, ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সেই সমাবেশ হবে ঐতিহাসিক। আর সেই সমাবেশ থেকেই তাঁরা ভোটের প্রচারে নেমে পড়বেন।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে আট দফায় নির্বাচন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা। তিনি দাবি করেন, ইভিএম মেশিন এরসঙ্গে ভি-প্যাড মিলিয়ে দেখতে হবে যাতে ইভিএম মেশিনে জাল ভোট ঢুকলে তা ধরা যায়।’

- Advertisement -

তাকে প্রশ্ন করা হয়, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বর্তমানে অসুস্থ, সুতরাং তাকে কি কোনভাবে এবারের নির্বাচনী প্রচারে শামিল করা হবে কিনা। উত্তরে মহ: সেলিম বলেন, ‘আগামী রবিবার তাদের যে, ব্রিগেডের সমাবেশ হচ্ছে সেখানে ভার্চুয়াল কিছু হচ্ছে না। তবে বুদ্ধবাবু প্রচারে না আসলেও তিনি রাজ্যের জনগণের মনে আছেন। কারণ তিনি সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে শিল্প নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান শাসকদল তাতে বাধা দেওয়ার দরুন তা সম্ভব হয়নি। আর সেই বাধাদানটা যে ঠিক ছিল না তা এতদিনে রাজ্যবাসী বুঝে গিয়েছেন।’

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তিনি বলেন, ‘একসময় বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশীয় বাজারে তেল কোম্পানিগুলি তেলের দাম কমিয়ে দেবেন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তেলের দাম সমানে কমে যাচ্ছে অথচ দেশের ভেতর তেল কোম্পানিগুলি সমানে তেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে। তিনি বলেন তেলের উপরে যেহেতু সহজে ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব সেহেতু কেন্দ্র-রাজ্য উভয়ই সরকারই ওই মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে পড়েছেন। হালে রাজ্য সরকার তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যে আন্দোলন শুরু করেছেন।’

অপরদিকে, এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) রেডস্টারের পক্ষে রাজ্য কমিটির তরফ থেকে অলীক চক্রবর্তী জানান, আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁরা যাদবপুর কেন্দ্রে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে সমর্থন করলেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভাঙ্গর কেন্দ্র তাদের প্রার্থী দেবেন। সেইসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ১০ মার্চ ‘ নো ভোট টু বিজেপি’ নামে ভাঙ্গর থেকে একটি মিছিল বের করবেন।