অ্যাম্বুলেন্সে দিনরাত রোগী নিয়ে ছুটছেন হেমতাবাদের সেলিনা

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: বাড়িতে অসুস্থ বাবা, মা। কিন্তু জীবিকার তাগিদে এক ফোনেই রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনি। আর এখন লকডাউনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত শুধুমাত্র করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোমে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত হেমতাবাদের সেলিনা বেগম।

কখনও আবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কোয়ারান্টিন কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন এই মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক। মাসখানেক ধরে সময়মত নাওয়া-খাওয়া ভুলে একের পর এক রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেছেন সেলিনা বেগম। বছর আঠাশের সেলিনা বেগম উত্তর দিনাজপুরের দক্ষিণ হেমতাবাদের ঠুনঠুনি গ্রামের বাসিন্দা।

- Advertisement -

অসুস্থ বাবা-মায়ের সেবার খরচ যোগাতে বছর দুয়েক আগে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদে যোগদান করেন তিনি। গোড়ার দিকে তাঁকে বিভিন্ন এলাকার সংক্রমণহীন রোগীদের রায়গঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হত। কিন্তু করোনা আবহে এখন রোগীদের নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটছেন সেলিনা। এমনকি কখনও আবার আপৎকালীন হিসেবে রায়গঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন এলাকার নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে হয় তাঁকে।

গত একমাস একদিনও ছুটি মেলেনি। তবে দিন কিংবা গভীর রাতে যখনই রোগীর পরিজনদের ফোন আসে, তখনই অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে হাজির হন সেলিনা। তার কথায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব নিজের শরীর সুরক্ষা করে, অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছি। বাড়িতে বাবা-মা অসুস্থ। তাই অ্যাম্বুলেন্স তো চালাতেই হবে। ভাইরাসের ভয়ে তো আমার ঘরে বসে থাকার কোনও উপায় নেই।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরাও সেলিনার কাজকে কুর্নিশ জানান। কিন্তু করোনা আতঙ্কের মাঝে সেলিনার প্রশ্ন, কবে যে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে? জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, সেলিনা খুব ভালো কাজ করছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেলিনাকে অন্যান্য রোগী আনার পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে এসে হেমতাবাদের সারি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করছেন। মঙ্গলবার বিকেল চারটা নাগাদ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এসে দুজন করোনা আক্রান্ত নার্সকে উদ্ধার করে হেমতাবাদের সারি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে সেলিনা।