সংজ্ঞাহীন মা, চাইল্ড লাইনে ঠাঁই পেল শিশু

41

বর্ধমান: সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাওড়া-বর্ধমান মেইন শাখার শক্তিগড় স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের বাইরে পড়ে ছিলেন এক মহিলা। পাশেই কান্নাকাটি করছিল তাঁর শিশু কন্যা। রবিবার সন্ধ্যায় অসুস্থ মহিলাকে দেখতে পেয়েই জিআরপি ও রেড ভলেন্টিয়ার্সরা মহিলাকে উদ্ধার করে বড়শুল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার সকালে বর্ধমান হাসপাতালেই ওই মহিলা মারা যান। মহিলার শিশু কন্যাকে তুলে দেওয়া হয়েছে চাইল্ড লাইনের হাতে। পুলিশ মহিলার পরিচয় ও ঠিকানার জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট কাউন্টারের বাইরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকা মহিলা তাঁর নাম জানাতে পারেননি। বর্ধমান-২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অরুন গোলদার বলেন, ‘মহিলার পাশে থাকা তাঁর বছর ৬ বয়সি মেয়ে জানিয়েছে তাঁর নাম আয়েশা ওরাং। ওই নাবালিকাই বলে তাঁর মা’য়ের নাম বুধনি ওরাং এবং বাবার নাম প্রশান্ত। বাড়ি কোথায় জানতে চাওয়া হলে শিশু কন্যাটি বলে অনেক দূরে গোপালপুরে। কোথাকার গোপালপুর তা নাবালিকা জানাতে পারেনি। তবে শিশুকন্যাটি বলেছে তাঁর কাকা তাঁদের শক্তিগড়ে নিয়ে।’ বড়শুল হাসপাতালে থেকে আয়েসাকে বর্ধমান হাসপাতালে স্থানান্তরের পর শিশু কন্যাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বর্ধমান-২ ব্লকের বিডিও সুবর্ণা মজুমদার জানার পরে তিনি চাইল্ড লাইনে খবর দেন। আয়েসা ওরাং আপাতত চাইল্ড লাইনের হেপাজতে রয়েছে। গণ-পরিবহন বন্ধ থাকা সত্বেও কিভাবে মহিলা তাঁর কন্যাকে নিয়ে শক্তিগড়ে এল তার তদন্ত শক্তিগড় থানার পুলিশ শুরু করেছে। নাবালিকাকে যাতে তাঁর বাড়িতে পৌছে দেওয়া যায় তার জন্যে পুলিশ মহিলার পরিচয় ও ঠিকানা উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করেছে।

- Advertisement -