Breaking News: ফের এক টেবিলে ভারত-চিন, উচ্চ পর্যায়ের সামরিক স্তরের আলোচনা আজ

438
ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক: ফের আলোচনার টেবিলে ভারত ও চিন। দুদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক স্তরের আলোচনা আজ। লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্তরের এই আলোচনা হবে পূর্ব লাদাখের চিনের দিকের চুশুল লাগোয়া মোল্দোতে।

বৈঠকে গালওয়ানে উপত্যকা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে। গত সপ্তাহে একাধিকবার গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন মেজর জেনারেল স্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনও সমাধান সূত্র বের না হওয়ায় আজ ফের আলোচনায় বসছে দুদেশ। ৬ জুন শেষ এই স্তরের আলোচনা হয়। সেই সময় সীমান্তে বেশ কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা কমাতে ওই বৈঠকে সেনা প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছিল দুই দেশ।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, রবিবারই ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীকে জলে, স্থলে, আকাশে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।  চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত-সহ তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে রাজনাথ সিংহ এমনই বার্তা দিয়েছেন বলে সেনা সূত্রে খবর। চিনা সেনাকে যোগ্য জবাব দিতে তিন বাহিনীকেই ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সূত্রের দাবি, কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, চিনের তরফে কোনও রকম আগ্রাসনের মনোভাব বুঝতে পারলেই তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে বৈঠক সূত্রে। ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার। এই পুরো সীমান্ত এলাকাতেই জল, স্থল ও আকাশে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি চিনা সেনার গতিবিধিও নখদর্পনে রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই নির্দেশের আগেই ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ নীতি বদলে ফেলা হয়েছে। এত দিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চিনের সেনা মুখোমুখি হলেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না-করার নীতি মেনে চলেছে ভারত। কিন্তু লাদাখের গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরেই এই নীতি বদলে ফেলা হয়েছে। নতুন নিয়মে চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনও বারণ থাকবে না সেনাবাহিনীর উপরে। ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপের পর ফের একবার আলোচনার টেবিলে বসছে ভারত ও চিন।

প্রসঙ্গত, ১৫ জুন অর্থাৎ গত সোমবার গালওয়ান উপত্যকার আধিপত্য নিয়ে ভারত-চিন সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালীন ভারতে ২০ জন সেনাকর্মী শহিদ হন। জানা গিয়েছে, চিনেরও ৪৩ জন সেনা ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। এরপরই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই নিয়ে ভারত-চিন মেজর-জেনারেল স্তরে বৈঠকও হয়। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ির সঙ্গে কথা বলেন। জানা গিয়েছে, তাতেও কিছু সুরাহা হয়নি। চিন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে, এমনটাই বলেন বিদেশমন্ত্রী।