রক্তমাংসের মানুষের শরীর থেকে কি আত্মা আলাদা করা যায়? শরীর এবং আত্মার বিচ্ছেদ, সেও কি সম্ভব? আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন, প্রযুক্তির আলোচনায় আধ্যাত্মিকতা আসছে কোথা থেকে? আসছে, তার কারণ জাপানি বিজ্ঞানী হিরোশি ইশিগুরো এমন প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছেন। প্রযুক্তি গবেষণার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর ধারণা, আগামী ১০ হাজার বছর পর মানুষকে আর রক্তমাংস দিয়ে চিহ্নিত করা যাবে না। ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানী একেবারে মানুষের মতো রোবট তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহলে বিখ্যাত। মানবদেহের বিবর্তন সম্পর্কে তাঁর তত্ত্ব শুনলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুরা যে রে রে করে উঠবেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ইশিগুরোর যুক্তি, মানবদেহে রক্তমাংসের জায়গা নেই। জৈব পদার্থ প্রতিস্থাপিত হবে অজৈব পদার্থ দিয়ে। কেন তিনি এমন বলছেন? জাপানি বিজ্ঞানীর বক্তব্য, এই পৃথিবীতে যেকোনো দিন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। সূর্যেও অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে। ফলে মানুষ তখন মহাকাশে বাস করতে বাধ্য হবে। তাঁর প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিতে কোনটা ভালো, কোনটা নিরাপদ? জৈব পদার্থ, না অজৈব পদার্থ?

আপনি নিশ্চয় ভাবছেন, এ বোধহয় সায়েন্স ফিকশনের কথা চলছে। না, ঠিক তা নয়। এ এক বিজ্ঞানীর চূড়ান্ত লক্ষ্য, আপাতত যাকে শুধু কল্পনাই বলা চলে। কিন্তু এই কল্পনাতেই তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে ভ্যাটিকানে। সেখানে পনটিফিক্যাল অ্যাকাডেমি ফর লাইফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই অ্যাকাডেমির প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ ভিনসেনজো পাগলিয়া বলছেন, ‘এ আবার কেমন স্বপ্ন? এরকম হয় নাকি? এ এক ভয়ংকর কল্পনা।’ জাপানি বিজ্ঞানীর যুক্তি নস্যাৎ করে তাঁর যুক্তি, ‘মানুষের অস্তিত্বের জন্য তাঁর শরীর গুরুতপূর্ণ। এই শরীর আমাদের ভালবাসার মাধ্যম, এর মাধ্যমেই আমরা আবেগ বিনিময় করি।’ অর্থাৎ, প্রযুক্তির বিকাশ যেমন মানবসভ্যতার সামনে অনন্ত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে, তেমনই ঝুঁকিও কম নয়।