ফের বাংলাদেশ সীমান্তে রেল লাইন পাতার কাজ শুরু

4862

হলদিবাড়ি: দুই বাংলার মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক কাঁটা তারের বেড়া কাটা হল রবিবার। দীর্ঘদিন হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথ পুনরায় চালুর জন্য বেড়াটি কাটা হয়। এদিন সকালে সীমান্ত রক্ষীর বাহিনীর উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া কাটা সহ লাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করল রেল দপ্তর। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে লাইন সংযোগের কাজ শেষ করা হবে বলে রেল সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, এদিন ৭৮২/২এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ১৫ মিটার কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। এই ১৫ মিটার জাগা দিয়ে বাংলাদেশের রেল লাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য পাতা হবে রেল লাইন। সেখানেই ভারতীয় রেল গড়ে তুলবে গেট। গেটটি থাকবে মোটা স্টিলের তৈরি। ১৫ মিটারের মধ্যে রেল লাইন পাতার জন্য বরাদ্ধ থাকবে ১০মিটার। আর ৫ মিটার জায়গা থাকবে সীমান্তরক্ষীদের যাতায়াতের জন্য। উচ্চতা থাকবে সাড়ে ছয় মিটার। বাংলাদেশের রেল লাইনের সঙ্গে ভারতের রেল পথ যুক্ত করতে ভারতের মাত্র ২০০ মিটার রেল লাইন পাতার কাজ করতে হবে। কাঁটা তারের ওপারে ১৫০ মিটার ও ভারতের দিকে মাত্র ৫০ মিটার রেল পথ তৈরি করলেই যুক্ত হয়ে যাবে ভারত-বাংলাদেশ রেল পথ। এই ২০০ মিটার রেল পথ তৈরির কাজ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন ভারতীয় রেল।

- Advertisement -

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে যাতায়াতের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন এই রেলপথটি সচল ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের সময় থেকে এই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় কলকাতা থেকে ট্রেন ছেড়ে বর্তমান বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশন হয়ে ট্রেন পৌঁছাত শিলিগুড়ি পর্যন্ত।

ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পর ভারত-বাংলাদেশ এই দুই দেশের সরকার ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু করতে উদ্যত হয়। তারই ফলশ্রুতিতে হলদিবাড়িতে গড়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মানের রেল স্টেশন। পাতা হয় ৩.৩৪ কিমি রেল লাইন। ঠিক তেমন ভাবেই বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্টেশনকে নতুন করে গড়ে তোলে ওই দেশের সরকার। চিলাহাটি থেকে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২৯অগস্ট চিলাহাটির জিরো পয়েন্টে ভারত-বাংলাদেশ সংযোগকারী রেল পথের নির্মাণ কাজের পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশের রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। সে দিন তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৬ মার্চ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দুইদেশের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিনের বন্ধ হয়ে থাকা ওই রেলপথ যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন।

এরপরই জোর প্রস্তুতি শুরু করে দুই দেশের রেল দপ্তর। বাংলাদেশ তাঁদের সীমানা পর্যন্ত রেল লাইন পাতার কাজ শেষ করলেও সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ভারতের দিকে মাত্র ২০০ মিটার রেল লাইন পাতার কাজ বাকি থেকে যায়। সেই কাজই শুরু হল রবিবার।