চোখের জলে বিদায় টেনিস সম্রাজ্ঞী সেরেনার

মেলবোর্ন : চোখের জল বাঁধ মানছে না। তা সামলেই ছোট্ট প্রত্যুত্তরে দাঁড়ি টানলেন সাংবাদিক সম্মেলনের, আই অ্যাম ডান। সঙ্গে যবনিকা পড়ে গেল সেরেনা উইলিয়ামসের ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে মার্গারেট কোর্টকে ছোঁয়ার স্বপ্নে। অধরা ইচ্ছা পড়ে থাকল মেলবোর্ন পার্কে। চার বছর আগে যে মঞ্চে নিজের ২৩তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন ৩৯ বছরের মার্কিন তারকা।

 

- Advertisement -

সেরেনার হার থেকে কান্নায় মোড়া বিদায় মেলবোর্ন পার্কে তুলে ধরল একগুচ্ছ প্রশ্ন। এটাই কি তবে শেষ? টেনিস সম্রাজ্ঞী কি আর ফিরবেন তাঁর পছন্দের এরিনায়? সেরেনা ভাঙলেন না। তবে নীরবতাও অনেক কিছুর উত্তর দেয়। ৩৯-এর কিংবদন্তির শরীরীভাষাও সেটাই বলে দিচ্ছিল, মানসিকভাবে তিনি কতটা ভেঙে পড়েছেন।

কাপ আর ঠোঁটের মধ্যে যে দূরত্ব, সেই ফাঁকটুকুর খেদ নিয়ে চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মঞ্চ ছাড়লেন সেরেনা। ঘাতক সেই নাওমি ওসাকা। ২০১৮-য় ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওসাকার কাছে হেরেছিলেন। বৃহস্পতিবারও ছবিটা বদলাল না। সেমিফাইনালের মঞ্চে ভুলের পর ভুল করলেন। গোটা ম্যাচে ২১টি আনফোর্সড এরর। সেরেনার ভাষায়, এ বিগ এরর ডে। অথচ প্রথম গেমে ২-০-তে এগিয়ে ছিলেন টেনিসের সুপারমম। দিনের শেষে ম্যাচের ফলাফল ওসাকার পক্ষে ৬-৩, ৬-৪। হৃদয়বিদারক বললেও কম বলা হবে!

নিজের এই ব্যর্থতা মন থেকে মানতে পারছেন না সেরেনা নিজেও। সাংবাদিক সম্মেলেন চোখের জলে ভাসতে ভাসতে বলে গেলেন, আজকে দুজনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ভুলের মাশুল। আমি প্রচুর ভুল করেছি। আমার কাছে জয়ের বিশাল সুযোগ ছিল। হেলায় হারিয়েছি। আজকের ম্যাচ বড় ভুল হিসেবে মনে থাকবে। এরপর তবে কি? অবসর? সেরেনার উত্তর, জানি না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত কাউকে জানতে দেব না।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেরেনা-বিদায়ে মূহ্যমান মেলবোর্ন পার্কও। আস্লান কারাৎসেভের রূপকথার দৌড় থামিয়ে ফাইনালে যাওয়া নোভাক জকোভিচের গলাতেও উঠে এল সেরেনা-কথা। বললেন, (সেরেনার সঙ্গে) একই সময়ে খেলতে পেরে গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করি। খুব কাছ থেকে ওঁর শ্রেষ্ঠত্বকে পরখ করেছি। ফিরলেন নিজের প্রসঙ্গে। বৃহস্পতিবার রড লেভার এরিনায় চেনা ছন্দে পাওয়া গেল বিশ্বের একনম্বরকে। কারাৎসেভকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-২-এ হারিয়ে উঠলেন নিজের ২৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। খেতাবি লড়াই ডানিল মেদভেদেভ কিংবা স্টেফানোস সিৎসিপাস প্রতিদ্বন্দ্বী সেই হোক, ফেভারিট জোকারই।

সেমিফাইনাল জয়ের পর চোটমুক্তির ঘোষণাও করে রাখলেন জকোভিচ। বললেন, পেটে আর কোনও যন্ত্রণা অনুভব করছি না। বলও আগের মতো সুইং করাতে পারছি। যে কারণে টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ খেলতে পারলাম। ১৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে নামার আগে সিৎসিপাস-মেদভেদেভের ম্যাচ পপকর্ন হাতে উপভোগ করবেন বলেও রসিকতায় মাততে দেখা গেল সার্ব তারকাকে। সবমিলিয়ে সেরেনার বিদায়ে দিনে নবম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত জকোভিচের সামনে।