স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্কদের ফেব্রুয়ারি মাসে টিকা সিরামের

397

নয়াদিল্লি: কবে মিলবে করোনার টিকা? কবে রেহাই পাওয়া যাবে এই মারণ ভাইরাস থেকে? এই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে। চলতি বছরের মেয়াদ যত কমে আসছে, ততই এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

যাবতীয় ধোঁয়াশা কাটিয়ে পুণের প্রতিষেধক সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, প্রতিষেধকের দৌড়ে এগিয়ে থাকা অক্সফোর্ডের করোনার টিকা আগামী বছরের এপ্রিলেই ভারতের আমজনতার জন্য বাজারে চলে আসবে। এরও দু’মাস আগে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্করা ওই টিকা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

- Advertisement -

ভারতে কোভিশিল্ডের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। পুনাওয়ালা জানান, দু’ডোজের ওই টিকার জন্য খরচ পড়বে সর্বোচ্চ হাজার টাকা। তবে সরকার টিকা কিনে দেশবাসীকে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে দাম প্রায় অর্ধেক কম হবে। আশার খবর এসেছে ভারত বায়োটেকের দেশীয় টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’-এর ক্ষেত্রেও। ওই প্রতিষেধকের প্রথম দু’টি পর্যায়ের প্রয়োগ সফল হওয়ায় তৃতীয় পর্বের প্রয়োগ শুরু হয়েছে হরিয়ানায়। অম্বালা ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রথম টিকাটি নেন সে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ। পাশাপাশি টিকাকরণ কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যত দ্রুত সম্ভব টিকাকরণের লক্ষ্যে টিকাকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গতি আনা এবং সময়মতো টিকা কেনার বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে এগোনোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে সাতটি প্রতিষেধকের শেষ পর্যায়ের প্রয়োগ চলছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় টিকা তৈরির বিষয়ে জোট বাঁধতে চেয়ে বাংলাদেশ, মায়ানমার, কাতার, ভুটান, সুইৎজারল্যান্ডের মতো বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে। প্রতিষেধকের মধ্যে দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফাইজার ও মডার্না সংস্থা। ফাইজারের দাবি, তাদের প্রতিষেধকে প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রথমে আমেরিকার বাজারে আসতে চলেছে এই প্রতিষেধক। পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় দফার পরীক্ষামূলক ডোজ দেওয়া হবে মোট ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে। এর ফল এটির আসতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগার কথা। আগামী বছরের গোড়ার দিকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবে সংস্থা। তবে সূত্রের মতে, আগামী বছরের মার্চ থেকে মে মাস নাগাদ বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে কোভ্যাক্সিনের। বাকি তিনটি প্রতিষেধকের মধ্যে দেশীয় সংস্থা জাইডাস ক্যাডিলার ‘জাইকোভ ডি’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রয়োগের ফলাফল আসার মুখে। এরপরই তৃতীয় পর্বের প্রয়োগের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও ভারতে রুশ প্রতিষেধক স্পুটনিক-ভি-এর দ্বিতীয়/তৃতীয় পর্বের পরীক্ষা খুব দ্রুত রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ শুরু করবে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। ভারতের আর এক সংস্থা ‘বায়োলজিক্যাল-ই’-এর প্রতিষেধকটি এখন প্রথম/দ্বিতীয় ধাপের প্রয়োগের পর্যায়ে রয়েছে।