উচ্চশিক্ষায় গেলেন ৪ চিকিৎসক, দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে শঙ্কা

393

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের উপর দিনহাটা শহর ও আশপাশের এলাকা তো বটেই, বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা একাধিক গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারাও নির্ভর করেন। হাসপাতালটি বহুদিন ধরেই চিকিৎসকের সংকটে ভুগলেও সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর জেরে কর্মরত চিকিৎসকদের উপর চাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের চার চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য সোমবার থেকে চাকরি ছাড়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। সূত্রের খবর, হাসপাতালের একমাত্র অর্থোপেডিক চিকিৎসকও উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছাড়তে চলেছেন। একসঙ্গে এতজন চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছাড়ায় হাসপাতালের পরিষেবায় সমস্যা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোগী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হাসপাতালের সুপার রণজিৎ মণ্ডল বলেন, পরিকাঠামো বাড়ানোর জেরে বর্তমানে হাসপাতালে রোগীদের চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তবুও যতটা সম্ভব আমরা সবসময়ই রোগীদের সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে চেষ্টা করি। হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংকট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এতজন চিকিৎসকের চাকরি ছাড়াটা চিন্তার বিষয়। তবে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতায় আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হবে। কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রণজিৎ ঘোষ বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য এই চিকিৎসকরা নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করেছেন। তাঁদের জায়গায় নতুন চিকিৎসক দেওয়া যায় কিনা দেখা হচ্ছে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংকটের বিষয়ে রাজ্যকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যা মিটবে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বিক্রম মণ্ডল উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছেড়েছেন। বর্তমানে এই বিভাগে আর দুজন চিকিৎসক আছেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ অন্বেষা সরকার ও ডাঃ অলোক রঞ্জনও উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছেড়েছেন। বর্তমানে এই বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক আছেন। এছাড়া অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ অভিজিৎ বড়াইও একই সূত্রে বাইরে গিয়েছেন। তিনি ছাড়া বর্তমানে এই বিভাগে দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। হাসপাতালের একমাত্র অর্থোপেডিক চিকিৎসকও উচ্চশিক্ষার জন্য চাকরি ছাড়তে চলেছেন। ১৯৯২ সালে এই মহকুমা হাসপাতালের ২০০টি বেড থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩০০টিরও বেশি হয়েছে। চিকিৎসার সুবিধায় এসএনসিইউ, এইচডিইউ বিভাগের পাশাপাশি ব্লাড ব্যাংক খোলা হয়েছে। বেডের সংখ্যা অনুযায়ী এই হাসপাতালে ৬২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২৬ জন রয়েছেন। চিকিৎসক সংকটের জেরে এই হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা নিয়ে রোগীরা একাধিকবার সরব হয়েছেন। এবারে চিকিৎসক সংকট আরও জোরালো হতে চলায় ইনডোর পরিষেবাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। দিনহাটার বাসিন্দা রাকেশ দেবনাথ বলেন, দিনহাটার মতো প্রান্তিক এলাকায় এই হাসপাতালই আমাদের একমাত্র ভরসা। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। ডাঃ অন্বেষা সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যাচ্ছি। পড়া শেষ হলেই আবার এখানে ফিরে কাজে যোগ দেব।