১২ লক্ষ টাকার বিদেশি মদ লুঠের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭ দুষ্কৃতী

106

আসানসোল, ১৩ জুনঃ লকডাউনের কারণে বন্ধ ছিল মদের দোকান। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসানসোলের রানিগঞ্জ ও অন্ডাল থানা এলাকার ২টি মদের দোকানে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুষ্কৃতী দল লুঠ করেছিল। শুধু দোকান নয়, গোডাউনে থাকা বিদেশি মদের কার্টুন মাল সমেত লুঠ হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মে মাসে ঘটে যাওয়া ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে, শনিবার রাতে ৭ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ। রবিবার সকালে আসানসোলের জিটি রোডের কুমারপুরে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট অফিসে এক সাংবাদিক সন্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ডিসিপি (সদর) অংশুমান সাহা। এদিনের সাংবাদিক সন্মেলনে ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ডাঃ কুলদীপ এস এস উপস্থিত ছিলেন।

জানা গিয়েছে, ২টি মদের দোকান ও গোডাউন থেকে নগদ টাকা সহ প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বিদেশি মদ লুঠ হয়েছিল। ৭ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করার সঙ্গে মদ লুঠের ঘটনার কিনারা করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ৪০ কার্টুন বিদেশী মদ। উদ্ধার হওয়া বিদেশি মদের বাজার মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়াও, ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ নগদ ৬৫ হাজার টাকা, একাধিক মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃত বাবলু ধীবর, বিক্রম সাউ, আখতার আলি, গণেশ গরাই, গৌতম রানা, জয়ন্ত বাউরি ও প্রশান্ত বাউরি আসানসোলের জামুড়িয়া থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দ।

- Advertisement -

গত ৩ মে রানিগঞ্জ থানার নিমচা ফাঁড়ি এলাকায় একটি মদের দোকান ও গোডাউনে লুঠপাট চালায় দুস্কৃতী দলটি। সেখান থেকে ৩০ কার্টুন বিদেশি মদ লুঠ হয়। অন্যদিকে, একই কায়দায় গত ২৯ মে অণ্ডাল থানার ধান্ডারডিহিতে আরেও একটি মদের দোকান ও গোডাউন থেকে ১০০ কার্টুন মদ লুঠ হয়। দোকান মালিক কর্তপক্ষের দাবি সেখানে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার মদ ছিল। এদিন ডিসিপি (সদর) বলেন, ২টি ঘটনার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে আসানসোল ও দূর্গাপুর পুলিশের ডিডি (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট) ও বিভিন্ন থানার দল করে তদন্ত শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরে শনিবার রাতে জামুড়িয়া এলাকা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে এই দলের মাস্টার মাইন্ড ছিল গণেশ গরাই। ধৃতদের পুলিশ হেপাজতে নিয়ে আর কারা এই ঘটনায় জড়িত তা জানার চেষ্টা করা হবে। লুঠের বাকি মদ কোথায় বিক্রি করা হয়েছে, তা জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা গুগল ম্যাপ সার্চ করে দুষ্কৃতীরা দোকানের লোকেশান জানত। তারপর তারা সেই দোকান এলাকায় রেইকি করত। মোটরসাইকেলে করে তারা এলাকায় এসে জেনে নিত যে, মদের দোকানের সঙ্গে কোনও গোডাউন আছে কিনা। সেখানে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তারক্ষী আছে কিনা, রাতে কতক্ষণ এলাকায় লোক যাতায়াত করে এই সমস্ত বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হত। সবকিছু ঠিকঠাক করে দেখে নেওয়ার, পরে তারা দল বেঁধে লুঠ করত। মদের কার্টুন তারা মিনি ট্রাকে করে নিয়ে যেত। ঘণ্টা খানেকের বেশী সময় ধরে দোকান ও গোডাউনে থেকে লুঠ করত। তবে, দূষ্কৃতীরা দেশী মদ বা কমদামি বিদেশি মদ নেয়নি। মুলত, দামি বিদেশী মদের দিকেই তাদের নজর ছিল বলে খবর মিলেছে।