শিলিগুড়ি থেকে বাঁকুড়ার বাসিন্দাদের নিয়ে রওনা দিল সাতটি বাস

শিলিগুড়ি: শনিবার শহরে আটকে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসিন্দাদের নিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের (এনবিএসটিসি) বাস গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। রবিবার পূর্ব ঘোষণা মতন বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে ২০৩ জন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে ৭টি সরকারি বাস রওনা দিল।

এদের মধ্যে কেউ যেমন অন্যান্য রাজ্য থেকে গন্তব্যে যাওযার পথে শহরে আটকে গিয়েছিলেন, তেমনি কেউ শহরে কাজ করতে এসে আটকে যান। সোমবার ফাঁসিদেওযা থেকে কোচবিহারের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়া হবে বলে নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই এলাকায় কর্মরত কোচবিহারের কিছু শ্রমিক আটকে থাকার কারণেই সেখান থেকে বাস ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিভিশনাল ম্যানেজার দীপঙ্কর দত্ত জানিয়েছেন, আগামীকালের জন্য গোটা সাতেক বাস রেখেছি। তবে যাত্রী সংখ্যা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

- Advertisement -

লকডাউনের জেরে বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ শিলিগুড়ি আটকে পড়েন। লকডাউনের সীমা বাড়ার সঙ্গে তাঁরা আরও সমস্যায় পড়েন। অবশেষে চলতি সপ্তাহে শহরে আটকে পড়া এই সমস্ত মানুষ মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হন। এরপর থেকেই প্রশাসনিক তরফে সক্রিয়তা নজরে পড়ে।

পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে ফোনে খবর পেয়ে গতকাল শহরে আটকে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগণার মোট ৪৫৩ জন টার্মিনাসে হাজির হন। থার্মাল স্ক্রিনিং করার পর ১৩টি বাসের মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠানো হয়। এদিন পূর্ব ঘোষণা মতনই বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে ৭টি বাসে ২০৩ জন গন্তব্যের দিকে গেলেন। এদিনও টার্মিনাসে আসা মাত্র শ্রমিকদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। শ্রমিকদের পাশাপাশি এদিন বাঁকুড়া থেকে শহরে এসে আটকে পড়া কিছু পর্যটককেও স্বস্তির সঙ্গে বাসে উঠতে দেখা গিয়েছে।

এদিন বাসে উঠে স্বস্তির হাসি হাসতে দেখা গিয়েছে অভিজিত্ নস্করের মুখে। তিনি বলেন, কাজ করতে এসে গত চার মাস ধরে এখানে আটকে পড়েছিলাম। খুব কষ্ট হয়েছিল। এখন একটু স্বস্তি। এদিনও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার সহ তৃণমূল যুব ও এনবিএসটিসির তৃণমূল সংগঠনের নেতা দিলীপ বিশ্বাসকে যাত্রীদের হাতে রাতের খাবার তুলে দিতে দেখা গিয়েছে। শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক সুমন্ত সহায় বলেন, দূরের জেলাগুলিতে আগে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করছি, তারপর ধাপে ধাপে বাকি জেলাগুলিতেও শহরে আটকে থাকা মানুষদের পাঠানো হবে।