আয়লানের স্মৃতি উসকে দিল কাবুল বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত শিশু

188

কাবুল: আফগানিস্তানে তালিবান রাজত্বে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ভারত, কাতারে পাড়ি দিচ্ছেন। অনেকে আবার নিজেকে বাঁচাতে সন্তানকে ফেলেই ছুটছেন অন্যদেশে।

মঙ্গলবার কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাতমাসের এক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। শিশুটি বিমানবন্দর চত্বরেই পড়েছিল। সদ্যোজাতের কান্না শুনে তাকে উদ্ধার করেন সেখানকার কর্মীরা। তবে তার বাবা-মায়ের খোঁজ মেলেনি।

- Advertisement -

বিমানবন্দরের কর্মীদের অনুমান, আফগানিস্তান ছাড়তে সোমবার কাবুল বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে। ভিড়ের মধ্যে শিশুটি কোনওভাবে বাবা-মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শিশুটির ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রয়েছে। সন্ত্রাসের কবলে পড়ে শৈশব যে বিপন্ন, সেটাই যেন প্রমাণিত হল ওই ঘটনায়।

এই ঘটনা আয়লানের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ভূমধ্যসাগর উপকূল থেকে উদ্ধার হয় পাঁচ বছরের আয়লান কুর্দির দেহ। আয়লানের প্রাণহীন দেহ পড়ে থাকার ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা দেখে শিউরে উঠেছিল বিশ্ব। পরে জানা যায়, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার একদল শরণার্থী তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সেই সময় ভূমধ্যসাগরে তাঁদের নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে মৃত্যু হয় ১২ জন শরণার্থীর। আয়লানও ছিল সেই দলে। নৌকাডুবির পর তুরস্কের সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। কাবুল বিমানবন্দর থেকে শিশুকন্যা উদ্ধারের ঘটনা আয়লানের স্মৃতিই উসকে দিল।