গ্রাহক না পেয়ে বাতিল হল সাত হাজার র‌্যাশন কার্ড

469

কোচবিহার : গোটা রাজ্যে কয়েক হাজার ভুয়ো র‌্যাশন কার্ড রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেও বহু কার্ড রয়েছে।  রাজ্য থেকে সেই কার্ড জেলায় পাঠিয়ে তার উপভোক্তা না পেয়ে ফেরত নিয়ে বাতিল করে দিয়েছে খাদ্য দপ্তর। সম্প্রতি র‌্যাশন কার্ড বিলি করতে গিয়ে ব্যাপারটি সামনে আসে। গোটা বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই ভুয়ো কার্ডে রাজ্যে র‌্যাশন দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, রাজ্যে ৬৩ লক্ষ কার্ড ছাড়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৭০ হাজার কার্ড বিভিন্ন কারণে ফেরত চলে আসে। তাতে ৬৩ হাজার উপভোক্তার কার্ড ফের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাত হাজার কার্ডের কোনও লোক পাওয়া যায়নি। এই কার্ডগুলিই ভুয়ো  বলে সেগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই সাত হাজারের মধ্যে উত্তরবঙ্গে প্রায় তিন হাজার কার্ড রয়েছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে স্পেশাল ড্রাইভ করে র‌্যাশন কার্ডের জন্য আবেদন জমা নিয়েছিল রাজ্য খাদ্য দপ্তর। এরপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে অনেকে আবেদন করেন। ডাকযোগে প্রায় ৬৩ লক্ষ নতুন কার্ড জেলায় পাঠায় রাজ্য খাদ্য দপ্তর। তার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার কার্ড ফেরত এসেছিল। এর মধ্যে অধিকাংশের ঠিকানা ভুল, মোবাইল নম্বর ঠিক না থাকায় কার্ডগুলো বিলি করতে পারেননি ডাককর্মীরা। এই রকম ৬৩ হাজার কার্ড ফের জেলায় পাঠানো হয়। সেই কার্ডগুলোর বর্তমানে সঠিক উপভোক্তা পেয়ে তা বিলি করার ব্যবস্থা করছে খাদ্য দপ্তর। কিন্তু সাত হাজার কার্ডের কোনও গ্রাহক খুঁজে পাচ্ছে না খাদ্য দপ্তর। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গে রয়েছে প্রায় তিন হাজার কার্ড। সেই কার্ডগুলো বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের সার্ভার থেকে সেগুলো সরিয়ে দিয়ে তা স্ট্যাম্প মেরে ড্যামেজ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলায় চার থেকে পাঁচশো করে এই ধরনের ভুয়ো  কার্ড তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। গোটা ঘটনার পিছনে র‌্যাশন দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

- Advertisement -

বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, বাম আমলেও ভুয়ো  র‌্যাশন কার্ড তৈরি হয়েছিল। এখনও সেটা হচ্ছে। সমান ট্র‌্যাডিশন চলছে। এটা বড় দুর্নীতি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, ভোটের আগে কার্ড বাতিল করে স্বচ্ছতার কথা বলে চমক দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে র‌্যাশনসামগ্রী দেওয়া নিয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে।