টাঙ্গন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বেশকিছু গ্রাম

338

গাজোল: টাঙ্গন নদীর বাঁধ ভেঙে হুহু করে জল ঢুকছে গাজোলের সালাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশকিছু গ্রামে। জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে বাঁধের প্রায় ৩০ ফুট অংশ। আর সেই ভাঙা অংশ দিয়ে হু হু করে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বেশকিছু গ্রাম।

জলের নীচে চলে গিয়েছে প্রচুর পরিমাণ কৃষিজমি। প্লাবিত হয়েছে বেশকিছু বসতি এলাকা। যার ফলে ডুবে গিয়েছে বাড়িঘরও। ভিটেমাটি হারিয়ে এই সমস্ত মানুষগুলি আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু জায়গায়। বলতে গেলে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। বাঁধ ভাঙার পর প্রায় দুই দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত বাঁধ মেরামতের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীরা। এই ঘটনা গাজোলের সালাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহাদেবপুর গ্রামের। গত পরশুদিন গভীর রাতে এই এলাকার টাঙ্গন নদীর বাঁধের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে হু হু করে জল ঢুকতে থাকে গোটা এলাকায়। গ্রামবাসীদের চোখের সামনে প্লাবিত হতে থাকে একের পর এক এলাকা।

- Advertisement -

এলাকাবাসী জয়প্রকাশ বিশ্বাস, মহাদেব বিশ্বাস, সুদেব মাহাতো জানালেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার জন্য মহাদেবপুর ছাড়াও প্লাবিত হয়েছে জামডাঙা, সূর্যনগর, শান্তিনগর, পোলাডাঙ্গা, কৃষ্ণনগর, ইমামনগর,গারাধুল সহ আরও বেশ কিছু এলাকা। এই সমস্ত এলাকার চাষের জমি চলে গেছে জলের তলায়। বহু জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছিল। এছাড়াও ভুট্টার জমিও রয়েছে প্রচুর। জমিতে ছিল বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। সমস্ত কিছুই চলে গিয়েছে জলের তলায়।

নিত্যহরি মণ্ডল বলেন, গত পরশুদিন রাতে বাঁধ ভাঙলেও মেরামত করা তো দূরের কথা, এখনও পর্যন্ত কেউই ওই এলাকা পরিদর্শনে যাননি। ব্যঙ্গ করে তিনি জানালেন, প্রশাসনিক কর্তারা আসবেনই বা কেমন করে, আসলে এখানে আসার মত রাস্তাই তো নেই। আমরা যে কী কষ্ট করে এখানে বেঁচে থাকি তা তাঁরা জানেন না। বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচারণ করে সরকার এবং প্রশাসন।

টাঙ্গন নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বেশকিছু গ্রাম| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

আক্ষেপের সুরে গ্রামবাসীরা জানালেন, প্রতিবছর বাঁধভাঙাটা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধ ভাঙে, আবার জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়। কিন্তু এই অবস্থা থেকে বাঁচতে গেলে দরকার টাঙ্গন নদীর নাব্যতা বাড়ানো। ড্রেজিং করে যে মাটি পাওয়া যাবে, তা দিয়ে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো যেতে পারে। সেইসঙ্গে বাঁধের উপর দিয়ে তৈরি করতে হবে রাস্তা। একমাত্র তাহলেই প্রায় সমস্ত সমস্যার সমাধান হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, গঙ্গা এবং ফুলহর নদীর বাঁধ ভাঙা নিয়ে যে তৎপরতা জেলা প্রশাসনের দেখা যায় তার সিকিভাগ তৎপরতাও দেখা যায় না আমাদের এলাকার বাঁধ ভেঙে গেলে। আসলে হয়তো আমাদের মানুষ বলেই মনে করেন না তাঁরা।

গাজোল ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা বিক্রান্ত সাহা জানালেন, মালদা সহ আশেপাশের এলাকায় চরম বৃষ্টিপাতের জেরে বেড়ে চলেছে নদীর জল স্তর। এদিন টাঙ্গন নদীর জলস্তর ২ মিটার বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় নদী বাঁধ ভেঙেছে। যার ফলে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ইমামনগর, পোলাডাঙ্গা, মহিশাল প্রভৃতি এলাকায়। এছাড়াও আংশিকভাবে আহিল, হাট নগর, নরসিংডাঙ্গা প্রভৃতি এলাকা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়াও মহানন্দা নদীর জল যদি এরকম বাড়তেই থাকে তাহলে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মালদা জেলার মধ্যে গাজোল ব্লকেই সবথেকে বেশি পরিমাণে আমন ধান চাষ হয়। আলাল, করকচ, চাকনগর, সালাইডাঙা, রানীগঞ্জ ১ এবং ২, বৈরগাছি ১ এবং ২ প্রভৃতি এলাকায় ব্যাপক হারে আমন ধান চাষ হয়ে থাকে। এই সমস্ত এলাকায় প্রায় ১৬৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যাপকভাবে মার খেতে পারে আমন ধান চাষ। এই বিষয় নিয়ে আজ তিনি দপ্তরের কর্মীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। আলোচনা করেছেন বিডিও উষ্ণতা মোক্তান এর সঙ্গে। আগামীকাল এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান তিনি।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এলাকায় পাঠানো হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারকে। তিনি সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।