দলের অন্দরেই ক্ষোভ, আলিপুরদুয়ারে প্রচারে সক্রিয় নন তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ

128

রাঙ্গালিবাজনা: মাদারিহাটে ভোটের প্রচারে মাঠে দেখা যাচ্ছে না তৃণমূলের পরিচিত এক ঝাঁক মুখকে। দলের নীচুতলার কর্মীদের মুখেই একথা শোনা গিয়েছে। বুধবার ডিমডিমা চা বাগানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন যুব তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু ওই সভার প্রস্তুতিতে মঙ্গলবারও মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের অনেক পরিচিত মুখকেই দেখা যায়নি। এমনকি সভার আমন্ত্রণ জোটেনি বলেও তৃণমূলের চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা মঙ্গলবারও আক্ষেপ করেছেন। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে যারা মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে রাতদিন এক করে লড়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেককেই এবছর আর ভোটের ময়দানে তেমনভাবে সক্রিয় নন বলে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এমন অনেকেই এবার ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো মাঝে মধ্যে ভোটের প্রচারে মুখ দেখিয়েই দায় সারছেন বলেও জানা গেছে। ভোটের দোরগোড়ায় তাই ওপরতলার নেতাদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের কর্মীরাই। ব্লকের অত্যন্ত পরিচিত মুখগুলিকে তেমনভাবে মাঠে দেখা না যাওয়ায় ভোটে কতটা প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়েও জল্পনা চলছে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যেই।

চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সহসভাপতি মান্নালাল জৈন গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের তৎকালীন ব্লক কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি ছিলেন। চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের নেতা হওয়ার সুবাদে মান্নালাল জৈন মোহন শর্মার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রসঙ্গত, মোহন শর্মা নিজেও চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি ছাড়াও একসময় দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সভাপতি পদেও ছিলেন। মোহনবাবুর পর তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সভাপতি হন মৃদুল গোস্বামী। এরপর ব্লক কমিটিগুলি পরিবর্তন করা হয়। পদ হারান মোহন ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মান্নালাল জৈন। বর্তমানে চা বাগান শ্রমিক সংগঠনে থাকলেও দলীয় কমিটিতে নেই তিনি। সম্প্রতি দু’একটি নির্বাচনী সভায় মান্নাবাবুকে দেখা গেলেও গতবারের মতো প্রচারের ময়দানে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। মান্নালাল জৈন এ প্রসঙ্গে ক্ষোভের কথা উগরে দিতে ছাড়েননি। তিনি জানান, নেতা পরিবর্তনের সাথে সঙ্গে যে কর্মীর গুরুত্ব কমে বা বেড়ে যায় তা জানা ছিল না। তাই এখন যতটা গুরুত্ব পাচ্ছেন দলকে ততটুকুই সময় দিচ্ছেন। দল যাদের যোগ্য মনে করছে তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রচারে সামনে আনছে। এমনকি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সভার আমন্ত্রণও পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, মান্নাবাবুর মতো আরও কয়েকজন নেতাকে এবার ভোটের মুখে প্রচারে তেমনভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরাই জানিয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন অথচ বীরপাড়ার বাসিন্দা তৃণমূলের এক নেতাকে ডিমডিমায় জনসভার প্রস্তুতিতে মঙ্গলবারও দেখা যায়নি। তাঁকে প্রচারেও দেখা যাচ্ছে না বলে তৃণমূলের কর্মীদের অনেকেই জানান। মঙ্গলবার তাঁকে ফোন করা হলে দেখা যায় তিনি সেটি বন্ধ করে রেখেছেন। মোহন শর্মা সম্প্রতি দল ও সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় কতটা প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাম না করেই এদিন মোহন শর্মাকে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতেই এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌছেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। আগামীকাল বীরপাড়ায় ডিমডিমায় সভা করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

- Advertisement -