দূষিত জলে তেষ্টা মেটে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের

80

চন্দন বাগচী নকশালবাড়ি : কুয়ো আছে ঠিকই। কিন্তু জলস্তর নীচে নেমে যাওয়ায় এখন আর জল ওঠে না কুয়োয়। বহুকষ্টে একটু-আধটু জল পাওয়া যায় বটে। কিন্তু সেই জল মুখে দেওয়া তো দূর, গৃহস্থালির কাজেও ব্যবহার করা যায় না ঠিকমতো। ব্লক প্রশাসন থেকে মার্ক-২ টিউবওয়েল বসানো হলেও প্রায় তিন বছর ধরে সেটিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পেরিয়ে পানীয় জল টেনে আনছেন নকশালবাড়ির দক্ষিণ স্টেশনপাড়ার প্রায় ৭০০ বাসিন্দা। একই সমস্যা সংলগ্ন কোটিয়াজোতেও। সেখানেও কুয়ো আছে। কুয়োয় জলও আছে। কিন্তু জলে দুর্গন্ধ থাকায় সেই জল মুখে তুলতে পারেন না বাসিন্দারা। তাছাড়া বেশ কয়েদিন ধরে কুয়ো থেকে লাল জল বের হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। কিন্তু গ্রামে কোনও টিউবওয়েল নেই। আশপাশে নেই কোনও গভীর নলকূপ। তাই বাধ্য হয়ে কুয়োর ওই দূষিত জলই খাচ্ছেন কোটিয়াজোতের প্রায় ৭০ জন গ্রামবাসী।

বিডিও অরিন্দম মণ্ডল অবশ্য গ্রামবাসীর এই জলকষ্টের কথা মানছেন। তিনি বলছেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু ভোটের জন্য এখন টেন্ডার ডাকা সম্ভব হচ্ছে না। ভোটপর্ব শেষ হলেই ওই দুই এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই সমস্যা চললেও স্থানীয় প্রশাসন পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে কোনও পদক্ষেপ করেনি। গ্রামবাসীর সমস্যার এই খবর কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ সংবাদের পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল। তখন নকশালবাড়ির বিডিও অরিন্দম মণ্ডল সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীদের আবেদন করতে বলেছিলেন। বিডিওর নির্দেশে গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আবেদন করার পরও জলের সমস্যা মেটেনি এই দুই এলাকায়। স্টেশনপাড়ায় কুয়ো আছে মাত্র তিনটি। কিন্তু প্রতিটির এখন শোচনীয় অবস্থা। সবগুলি কুয়োর রিং ভেঙে গিয়েছে। ফলে মাটি, পাথর সরাসরি গিয়ে পড়ছে কুয়োর জলে। সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি কুয়োর মধ্যেই গজিয়ে উঠেছে আগাছা। এদিকে, এলাকার অধিকাংশ পরিবার গরিব হওয়ায় তাঁদের পক্ষে কুয়ো সংস্কার করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে রেললাইন পার করে জল টেনে আনতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

গুলশানা খাতুনের বাস স্টেশনপাড়াতেই। তিনি বলেন, তিনটির মধ্যে দুটি কুয়োর জল অনেক নীচে চলে গিয়েছে। ওগুলো থেকে সহজে জল তোলা যায় না এখন। একটিমাত্র কুয়োতে জল থাকলেও সেখানের জলও ঘোলাটে। ওই জল খাওয়া যায় না। তাই রেললাইন পার করে রাস্তার ধারে কল থেকে জল আনতে হয় আমাদের। একই অভিযোগ বাসিন্দা সুজিত লাহার বক্তব্যেও। তাঁর কথায়, প্রায় তিন বছর থেকে আমাদের জলকষ্ট চলছে। পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে সবাইকে জানিয়েছি। তাঁরা একাধিকবার এলাকায় এসে ঘুরেও গিয়েছেন। কিন্তু আজও এলাকায় জলের সমস্যা মেটেনি। এদিকে রেললাইন পার করে জল আনতে যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানীয় জলের সমস্যার কথা জানালেন কোটিয়াজোতের বাসিন্দা দীপক গিরি। তাঁর কথায়, কুয়ো থেকে জল উঠলেও সেই জল খাওয়ার যোগ্য নয়। জলে ভীষণ দুর্গন্ধ। এখন কুয়ো থেকে জল তুলতে গেলেই লাল রংয়ের জল বের হয়। কিন্তু আমাদের অন্য উপায় নেই। এলাকায় পানীয় জলের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ওই জলই খাচ্ছি আমরা।