বর্ষায় নরককুণ্ড, মালদা জেলা মুখ্য নিয়ন্ত্রিত বাজারে মার খাচ্ছে ব্যবসা

367

হরষিৎ সিংহ, মালদা : বর্ষা এলেই যেন নরককুণ্ড হয়ে ওঠে বাজার চত্বর। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তায় জমে যায় জল। আর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো সেই জল বেরোনোর জন্য কোনো নিকাশি নালার ব্যবস্থা নেই। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ঢোকার মূল রাস্তা সবসময়ই জলে ভরে থাকছে। ফলে পণ্যবোঝাই লরিই হোক কিংবা ছোটো কোনো গাড়ি, বাজারের ভেতর ঢোকা তো দূরস্ত, হেঁটে চলাচল করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এসব কারণের জন্য তীব্র সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। কারও কোনো হেলদোল নেই।

এই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মালদা জেলা মুখ্য নিয়ন্ত্রিত বাজার। নিকাশি ও রাস্তা সেখানে প্রায় নেই বললেই চলে। এর জেরে বর্ষার মরশুমে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বাজার চত্বরের সমস্ত ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, এরকম বেহাল পরিস্থিতির জন্য ছোটো ব্যবসায়ী বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজারে আসছেন না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মুখ্য বাজারের বড়ো ব্যবসায়ীদের। রাস্তায় জল আটকে থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারছে না পণ্যবোঝাই গাড়িও। ফলে বাধ্য হয়ে শহরের অন্য কোথাও লরি নিয়ে গিয়ে নামাতে হচ্ছে পণ্য। সেখান থেকে আবার ছোটো গাড়ি বা ঠেলাগাড়ি করে দোকানে সেই পণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেই পণ্য। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজার কমিটির পক্ষে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারপর আজও সেই সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তবে মালদা জেলা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, আমরা বিষয়টি জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি মুখ্য বাজার চত্বরের রাস্তা তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাগুলি তৈরি হয়ে যাবে। রাস্তা তৈরি হলে তারপর আমরা বাজার চত্বরে নিকাশি ব্যবস্থা তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।

- Advertisement -

ইংরেজবাজার শহরের আমবাজার এলাকায় রয়েছে মালদা জেলা মুখ্য নিয়ন্ত্রিত বাজার। জেলার সমস্ত মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাই এই বাজারের উপর নির্ভরশীল। সরকারি এই বাজার থেকেই জেলার প্রায় সমস্ত বাজারে পণ্য সরবরাহ হয়। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতায় এই বাজার এখনও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাজার বসার সমস্ত ব্যবস্থা থাকলেও বেহাল রয়েছে মূল পরিকাঠামোই। মূল রাস্তাটিও রয়েছে কেবলমাত্র বাজারের ঢোকা পর্যন্ত। তারপর থেকেই সম্পূর্ণ রাস্তা এখনও কাঁচা। ফলে বৃষ্টি পড়লেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। রাস্তায় দিনের পর দিন জল জমে থাকছে। কোনো গাড়ি ঢুকতে না পারায় জেলার অন্যান্য ব্যবসায়ীরও এখানে পণ্য কিনতে আসছেন না। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ছোটো ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, নিয়ন্ত্রিত বাজারের রাস্তা বেহাল। তাই সেখানে কোনো গাড়ি ঢুকতে রাজি হচ্ছে না। কোনো গাড়ি আবার য়েতে রাজি হলেও ভাড়া বেশি চায়। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রথবাড়ি বা অন্য বাজার থেকে পাইকারি মূল্যে বাজার করছি। তবে নিয়ন্ত্রিত বাজারে জিনিসের দাম কিছুটা কম হয়। সেখানে বাজার করলে আমাদের অনেকটাই সুবিধা হয়।

ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, এছাড়া নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় বাজার চত্বরে কম-বেশি সবসময়ই জল জমে থাকে। এমন অবস্থায় বাজারের খুচরো ব্যবসায়ীরা সেখানে বসতে পারেন না। গোটা বাজার চত্বর জল-কাদায় ভরে থাকে। চরম সমস্যায় পড়তে হয় ক্রেতা-বিক্রেতা সকলকেই। এছাড়া বাজারে জমে থাকা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার না হওযায় বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সেসবও। ফলে গোটা চত্বরে দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে ওই বাজার চত্বরে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজারের সমস্ত রাস্তাগুলি কংক্রিটের তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে বাজারের পেছন দিকের রাস্তা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাকি রাস্তাগুলি তৈরির দাবি জানিয়েছেন। সেগুলির কাজও দ্রুত শুরু করা হবে। মালদা জেলা মুখ্য নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাভাপতি রাজকুমার প্রসাদ বলেন, আমরা প্রশাসনকে রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা তৈরির জন্য বহুবার জানিয়েছি। রাস্তা না থাকার জন্য ক্রেতারা বাজারে আসছেন না। আমাদের পণ্যবোঝাই গাড়িও ঢুকতে পারছে না। ফলে আমাদের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাজারে ঢোকার মূল রাস্তাটি তৈরি হলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।