মোদির কাছে সাহায্যের আর্জি কামাথিপুরার যৌনকর্মীদের

283

মুম্বাই : কেউ জানলা দিয়ে একদৃষ্টিতে বাইরের দিকে চেয়ে, আবার কেউ বারান্দায় বসে উদাস ভঙ্গিতে পথের দিকে তাকিয়ে, কেউ আবার দলবেঁধে তাস খেলায় মত্ত। মুম্বাইয়ের কামাথিপুরার যৌনপল্লির চিত্র এখন এমনই। লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে সংকটে এখানকার হাজার হাজার যৌনকর্মী। দশকের পর দশক ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত থাকা অনেকেই মনে করতে পারছেন না এমন সংকট শেষ কবে এসেছে।

হাজার লোকের ভিড়ে সরগরম থাকা নিষিদ্ধপল্লীতে এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। ক্রেতার অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই পেশায় যুক্ত থাকা কয়েক হাজার মহিলা। কামথিপুরার ১০ নম্বর গলিতে ২৫ বছর ধরে বসবাস করা নেপাল থেকে আসা এক যৌনকর্মী জানান, এর আগে এই শহর জঙ্গি আক্রমণ, বোমা বিস্ফোরণ, মহামারি দেখেছে। কিন্তু এমন হাল কখনও হযনি। রবিবার থেকে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকা ওই মহিলার আক্ষেপ, এইরকম চললে কী খাব আর কীভাবেই বা ঘর ভাড়া দেব।

- Advertisement -

কাজ না থাকায় সময় কাটানোই দুষ্কর তাঁদের কাছে। সময় কাটাতে তাঁরা কেউ তাস খেলছেন, আবার কেউ দুঃখ ভুলতে অন্যের সাথে খুনিসুটিতে মত্ত। কেউ আবার উদাস ভঙ্গিতে জানলা থেকে বাইরের দিকে চেয়ে রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দালালের খপ্পরে পড়ে কামথিপুরায় ঠাঁই মেলা বছর ৩০-এর এক মহিলা বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে কোনও কাজ নেই। পুনেতে থাকা ছেলের পড়াশুনার খরচের জন্য প্রতিমাসে অন্তত ১৫০০ টাকা পাঠাই। কীভাবে সেই টাকা যোগাড় হবে জানিনা।’

আরেক যৌনকর্মী বলেন, ‘আমাদের ঘরেও তো বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তান আছে। সরকার কেন আমাদের কথা একবার ভাবছে না। কেনই বা আমাদের জন্য কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করা হচ্ছে না।’ তাঁর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, হানাহানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে।