তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া বালুরঘাট কলেজে

168

বালুরঘাট: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া পড়ল বালুরঘাট কলেজেও। ছাত্র সংসদের ঘরের দরজার তালা ভেঙে রাতে ভেতরে ঢুকে মদ্যপান করছে দুষ্কৃতীরা। এই অভিযোগে মঙ্গলবার বালুরঘাট কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, জেলা সভাপতি অতনু রায় অনুগামীদের বিরুদ্ধে হলেও ওই গোষ্ঠীর তরফে অভিযোগ খণ্ডন করা হয়েছে। কলেজে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। দু’পক্ষের চাপানউতোর ও বিক্ষোভের জেরে এদিন উত্তাল হয়ে ওঠে বালুরঘাট কলেজ।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এতদিন জেলা সভাপতি ছিলেন অর্পিতা ঘোষ। সেই সময় অর্পিতা ঘোষের অনুগামী দেবাশিস মজুমদার বালুরঘাট কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরবর্তীতে, অর্পিতা ঘোষকে সরিয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি হন গৌতম দাস। এরপর দেবাশিস মজুমদার বিজেপিতে চলে যান। কিন্তু বালুরঘাট কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা দল বদল করেননি। তবে গৌতম দাস জেলা সভাপতি হতেই বালুরঘাট কলেজে সমীকরণ বদলে যায়। ক্রমেই সক্রিয় হয়ে ওঠে দেবাশিস মজুমদারের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীরা। দু’দিন আগে, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান হন বিপ্লব মিত্র। অপরদিকে, অর্পিতা ঘোষ আবার নির্বাচনের আগে জেলা তৃণমূলের বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে ফিরে এসেছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অর্পিতা অনুগামীদের সঙ্গে গৌতম দাসের অনুগামীদের দ্বন্দ্বই কলেজে গণ্ডগোলের নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্পিতা অনুগামী বলে পরিচিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের শহর সভাপতি অমরনাথ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে বালুরঘাট কলেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কলেজের ছাত্র-সংসদের ঘরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা মদ্যপান করেছে।’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অপর গোষ্ঠীর নেতা তথা কলেজের প্রাক্তন জিএস বিক্রম রায় জানান, ছাত্র সংসদের ঘরের তালা ভাঙার অভিযোগ ভিত্তিহীন। কলেজের ছাত্র নির্বাচন বন্ধ থাকায়, সংসদ কক্ষ কলেজ কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে রেখেছে। বালুরঘাট কলেজের প্রিন্সিপাল পঙ্কজ কুণ্ডু জানান, এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। ছাত্র নির্বাচন বন্ধ থাকায় ঘরে তালা মেরে রাখা হয়েছে।