ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছেন শিলিগুড়ির শংকর

324

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র পার্থসারথি চক্রবর্তীর পর এবার ওই কলেজের ছাত্র শংকর ঘোষের নাম মনোনীত হল শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারের জন্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নাম ঘোষণার পর খুশির হাওয়া শিলিগুড়ি কলেজে। পরপর দুবছর কলেজের দুই ছাত্রের এমন কৃতিত্বে কলেজের অধ্যাপকরাও খুশি। বাবা অমিয় ঘোষ রেলকর্মী ছিলেন। কয়েক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। মা শুক্লা ঘোষ এখন মুম্বইয়ে থাকেন ছেলের সঙ্গেই। শিলিগুড়ি মিলনপল্লির শংকর ঘোষের ছেলেবেলায় পড়াশোনা ডনবস্কো স্কুলে। সেখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়শোনার পর বাণীমন্দির রেলওয়ে স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে শিলিগুড়ি কলেজে ভরতি হন। কলেজ পাস করার পর দিল্লিতে পড়াশোনা জেএনইউ-তে। এরপর ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের পদার্থবিদ্যা বিভাগে রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সাল থেকে মুম্বইয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে কাজে যোগ দেন। এখনও সেখানেই তিনি কর্মরত।

ছেলেবেলায় শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে তাঁকে- এটা একবারের জন্যও ভাবেননি শংকরবাবু। পড়াশোনার পাশাপাশি চুটিয়ে খেলাধুলোও চলত আর পাঁচজন বন্ধুর সঙ্গে। জেএনইউতে ভরতির জন্য যেদিন শিলিগুড়ি ছাড়তে হয়, সেই দিনটা তাঁর কাছে খুবই কষ্টের ছিল। আস্তে আস্তে উত্তরবঙ্গ ছাড়ার কষ্ট কিছুটা মানিয়ে নিয়েছেন। তবে এখনও প্রতিবছর গরমের সময় পরিবার নিয়ে চলে আসেন শিলিগুড়িতে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়। শংকরবাবু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ওই পুরস্কারের ব্যাপারে জানতে পারি। খুব ভালো লাগছে। আমাদের বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই কিন্তু পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। তবে আমরা কেউই শহরের বাইরে বের হতে চাইতাম না। সাধারণ ছেলে হিসাবে কোনোদিন ভাবিনি যে এই জায়গায় পেঁছাব। বাবা বলেছিলেন, দিল্লি গিয়ে পড়াশোনা করতে। তাই সেখানেই পড়তে চলে যাই। তবে উত্তরবঙ্গ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আমার কিন্তু ছিল না। শংকরবাবুর কথায়, শিলিগুড়ি এখনও আমাকে টানে। সময় পেলেই যাই শিলিগুড়িতে। গতবছর শিলিগুড়ির পার্থসারথি চক্রবর্তীর হাতে  শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের ওই প্রাক্তন ছাত্রের পর এবার ওই পুরস্কার পেতে চলেছেন শিলিগুড়িরই শংকর ঘোষ। শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষ বলেন, এটা খুবই গর্বের। পার্থসারথিও আমাদের কলেজের ছাত্র ছিল। এবার শংকর ঘোষ আমাদের শহরের মুখ উজ্জ্বল করল। শিলিগুড়ি এলে ওকে আমরা কলেজে আসার আমন্ত্রণ জানাব।

নয়াদিল্লির সংযোজন : ২০১৯ সালের শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার বিজয়ী ১২ জনের তালিকায় পাঁচজনই বঙ্গসন্তান। বাঙালি পুরস্কারপ্রাপকরা হলেন বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের সৌমেন বসাক, কেমিক্যাল সায়েন্সে তাপসকুমার মাঝি, অ্যাটমোস্ফিয়ারিক সায়েন্সে সুবিমল ঘোষ, ফিজিক্যাল সায়েন্সের শংকর ঘোষ ও অনিন্দ্য সিনহা। তবে এঁদের কেউ এখন এ রাজ্যের বাসিন্দা নন। কলকাতা থেকে ভাটনগর পুরস্কার পেয়েছেন অবাঙালি গবেষক আইএসআই-এর নীনা গুপ্তা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার দেয় কেন্দ্র। পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। এবছর মোট সাতটি বিভাগে ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছেন ১২ জন গবেষক।